সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রায় ৬০০ ইসরায়েলি দখলদার জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করেছে। ইহুদিদের নতুন বছর উৎসব উদযাপনের নাম করে স্থানীয় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে এই অনুপ্রবেশের সুযোগ তৈরি করে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। গত রবিবার জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইহুদি ছুটির দ্বিতীয় দিনে বাব আল-মাগারিবা (ডাং গেট) দিয়ে মোট ৫৯৩ জন দখলদার মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে। ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর কড়া সুরক্ষায় সকাল ও বিকেলের দুটি আলাদা অধিবেশনে এসব অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়। শুরুতে গভর্নরেট অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ৪৮০ জন জানালেও পরবর্তীতে সংশোধন করে তা ৫৯৩ জন বলে উল্লেখ করে।
অন্য এক বিবৃতিতে গভর্নরেট আরও জানায়, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ফজরের নামাজের সময় থেকেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের পথ কেবল ‘হুত্তা’ ও ‘চেইন গেট’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধও চাপিয়ে দেওয়া হয়। তবে ঠিক কত বছর বয়সীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে, চেকপয়েন্টে থাকা ইসরায়েলি সেনারা তা প্রকাশ করতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানায়।
এই চরম কড়াকড়ির ফলে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মুসল্লি মসজিদে পৌঁছাতে পারেননি। আর যারা বহু কষ্টে ওই এলাকায় পৌঁছাতে পেরেছিলেন, তাদের একটি বড় অংশকে মসজিদের ফটকের বাইরেই রাস্তায় নামাজ আদায় করতে বাধ্য করা হয়। মূলত ইহুদি নববর্ষ উপলক্ষে আল-আকসা মসজিদ চত্বরে জোরপূর্বক প্রবেশের জন্য ইসরায়েলি উগ্রপন্থী ‘টেম্পল গ্রুপগুলোর’ আহ্বানের সঙ্গেই ইসরায়েলি বাহিনীর এই বিধিনিষেধের মিল পাওয়া গেছে।
জেরুজালেম গভর্নরেট উল্লেখ করেছে, ইহুদিদের ছুটির এই মরসুমকে কেন্দ্র করে আল-আকসা মসজিদকে লক্ষ্য করে চরম উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে এবং এই অনুপ্রবেশ সেই চক্রান্তেরই অংশ। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের নিজের পবিত্রতম স্থানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আদেশ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এমন প্রায় ৮৫০টি নিষেধাজ্ঞার আদেশ নথিভুক্ত করার কথা জানিয়েছে গভর্নরেট।
এর আগে গত শুক্রবার গভর্নরেট সতর্ক করে বলেছিল, ইহুদিদের ছুটির দিনগুলোতে আল-আকসা মসজিদের ভেতরে নিজস্ব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তথাকথিত ইসরায়েলি টেম্পল গ্রুপগুলোর অপতৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। তারা অভিযোগ করে, ইসরায়েলি দখলদাররা মসজিদের চারপাশে ও ফটকগুলোতে শক্তির জোরে নিজস্ব আচার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে স্থানটিতে একটি ‘নতুন বাস্তবতা’ তৈরি করা এবং আল-আকসার ঐতিহাসিক ইসলামিক পরিচয় চিরতরে ক্ষুণ্ন করার গভীর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইহুদিদের চলতি ছুটির মরসুম ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ‘রোশ হাশানাহ’ উৎসব দিয়ে শুরু হয়েছে, যা ২১ সেপ্টেম্বর ‘ইয়ম কিপপুর’-এর মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর ‘সুকোট’ এবং ৩ অক্টোবর ‘সিমচাত তোরাহ’ উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ‘ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ’ এ ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধের জন্য বারবার আন্তর্জাতিক আহ্বান জানিয়ে আসছে। তা সত্ত্বেও ২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েলি পুলিশ সম্পূর্ণ একতরফাভাবে দখলদার ইহুদিদের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিদের মূল অভিযোগ- অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ আল-আকসা মসজিদকে পুরোদমে ইহুদিকরণ করতে এবং এর শতবর্ষী আরব ও ইসলামিক পরিচয় মুছে ফেলতে কয়েক দশক ধরে তৎপরতা জোরদার করেছে ইসরায়েল। অথচ আন্তর্জাতিক প্রস্তাব অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেম হলো ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রস্তাবে ১৯৬৭ সালে শহরটিতে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্ব কিংবা ১৯৮০ সালের জোরপূর্বক অধিগ্রহণকে কখনোই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।