বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি:: আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে সাগর ও নদীতে শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ কারণে গভীর সাগর থেকে পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। এখনো ইলিশের পেটে ডিম না আশায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। নিষেধাজ্ঞাকালীন পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের আগ্রাসন বন্ধে দেশের জলসীমানায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, প্রণোদনার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং তা প্রকৃত জেলেদের মাঝে বন্টনের দাবি জানানো হয়েছে।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজননের জন্য ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে।নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাতজাত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
মহিপুরের কোমরপুর গ্রামের জেলে মিলন মিয়া বলেন, এখনো অধিকাংশ ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। আরো ১০ থেকে ১৫ দিন পর হয়তো ডিম আসতে পারে। তার আগেই সরকার অবরোধ দিয়েছে। আমরা মৌসুমের শুরু থেকে তেমন ইলিশ পাইনি। অনেকের বাজার খরচও ওঠেনি। এখন মৌসুমের শেষ সময়ে সবাই কম বেশি ইলিশ পাচ্ছে, আর এর মধ্যেই শুরু হচ্ছে অবরোধ।
তিনি বলেন, আমরা ধার দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছি। আমরা আসলে এখন আর জেলে পেশায় টিকে থাকতে পারছি না।
লতাচপলী ইউনিয়নের জেলে জানে আলম বলেন, ইলিশের পেটে ডিম না আসলেও সরকারের আরোপিত ২২ দিনের অবরোধ আমরা মেনে চলব। তবে সময় পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। তাই এই ২২ দিন দেশের জল সীমানায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া সরকার যে ২৫ কেজি চাল দিবে, তা দিয়ে আসলে আমাদের সংসার চলবে না। আমরা চালের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। আবার অনেক পরিচিত জেলে কিন্তু চাল পায় না। প্রকৃত জেলেদের মাঝে চাল বন্টনের দাবি জানাচ্ছি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, জেলায় ৭৯ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এসব জেলের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে। নিষেধাজ্ঞা শতভাগ সফল করতে জনসচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি সাগর ও নদীতে ২২ দিন প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে।