মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রকিবেদক:: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় লোকজন তাকে চাপ সৃষ্টি করে। অনিয়মের বিষয়ে জানতে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগে মব সৃষ্টির অভিযোগে ২০ জনের নামে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ১৬ জুলাই এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার রাতে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে থানায় মামলা করে। এ ঘটনায় আমিনুল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার বিবরণে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় কিছু লোক বক্সনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউদ্দিন আহমেদকে স্কুল থেকে সরে যেতে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। গত বৃহস্পতিবার স্কুল চলাকালে ওই এলাকার আসফাক হোসেন ও খায়রুল বাসারের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনলোক স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক শফিউদ্দিনকে স্থায়ী আমানতের টাকা উত্তোলনের মিটিংয়ের রেজুলেশন খাতা দেখাতে বলে। এতে তিনি প্রথমে রাজি না হলে তাকে গালিগালাজ করে। এরপর কয়েকজনে তার উপর চড়াও হয়ে গায়ে হাত তুলতে উদ্যত হয়। অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে আসলে তাকে দ্রুত পদত্যাগ করে স্কুলের সব হিসেব বুঝিয়ে দিতে বলে আসফাক, খায়রুল ও তার লোকেরা চলে যায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় এমপি খন্দকার আবু আশফাকের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিক নবাবগঞ্জ থানার ওসিকে এ ঘটনায় মামলা নিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারে নির্দেশ দেন। পরে সোমবার রাতে পুলিশ মামলা নিয়ে বক্সনগর এলাকা থেকে আমিনুল নামে এজাহারভূক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রধান শিক্ষক শফিউদ্দিন বলেন, ৫ আগষ্টের পর হতেই কিছু লোক তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ কাজ করছে। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। অন্যায়বাবে তাকে পদত্যাগে চাপ দেয়া হয়।

এদিকে স্থানীয় এক অভিভাবক সদস্য মরিয়ম বেগম(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, স্যারের বিরুদ্ধে অর্থআত্মসাত ও অনিয়মের অভিযোগে এর আগেও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের টাকা তুলেছে কোনো রেজুলেশন ছাড়া। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ আছে। তিনি স্বেচ্ছাচারিতা করেই এসব করেছেন। তবে ওই দিনের ঘটনা সর্ম্পকে আমার জানা নেই।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ বলেন, শিক্ষক অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ না নিয়ে মব সৃষ্টি করা একটা অপরাধ। এমপি স্যারের নির্দেশে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।