বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন

নেপালে নতুন করে আঘাত হেনেছে ভূমিধস ও ভারী বৃষ্টিপাত, প্রাণহানি ৩০

ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সরকারি ভবন। ছবি: বিবিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: হিমালয়কন্যা নেপালে নতুন করে আঘাত হেনেছে ভূমিধস ও ভারী বৃষ্টিপাত। এতে প্রায় ৩০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর আগে আগস্ট মাসের প্রলয়ংকারী বন্যায় দেশটিতে ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বিপাকে পর্যটক ও ট্রেকাররা

নেপালের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অন্নপূর্ণা সামিটের শত শত ট্রেকারকে আকস্মিক এই দুর্যোগের কারণে তাদের হাইকিং সংক্ষিপ্ত করে নিরাপদে সরে আসতে হয়েছে। সাধারণত যে পথ শেষ করতে তিন সপ্তাহ সময় লাগে, সেই মানাং ও মুস্তাং জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অনেক ট্রেকারকে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, “অনেক ট্রেকারকে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করা হয়েছে।”

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যান্ডু গ্রাহাম ও তার গাইড প্রেম কেসি জানান, মানাং গ্রাম থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের ১৫টির বেশি ভূমিধস পার হতে হয়েছে। গ্রাহাম বলেন, “এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বেশ বিপজ্জনক ছিল, আর এখন তো এর ঝুঁকি আরো বেড়ে গেছে।”

গ্রাহাম জানান, তারা যখন ছামে গ্রামে পৌঁছান, তখন ভূমিধসের আশঙ্কায় গ্রামটি খালি করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তারা আটকা পড়েন এবং জঙ্গলে এক রাত কাটাতে বাধ্য হন।

ছামের গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর ওপর বিশাল ভূমিধসের কারণে আংশিক সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে একটি অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি ও সেতু তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা বিবিসিকে জানান, গত তিন দিন ধরে কর্তৃপক্ষ এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

এদিকে ট্রেকিং গাইড সে রিং ডোমা জানান, তাকে ও তার দলকে ২৮টি ভূমিধস পার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, “গত মাসের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনো টাটকা থাকায় শারীরিক কষ্টের চেয়ে মানসিক চাপ অনেক বেশি কঠিন ছিল।” তার ভাষায়, “বজ্রপাতের শব্দ হলেও আমরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে বেরিয়ে আসতাম, দেখতাম আমাদের দিকে কিছু ধেয়ে আসছে কি না।”

তার ক্লায়েন্ট নরওয়ের এলেন ভালস্ট্রোম বলেন, পর্যটকরা ভাগ্যবান- তারা কেবল কিছু জিনিসপত্র ফেলে আসতে পেরেছেন, অথচ স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ও জমিটারই ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, কর্তৃপক্ষ খুব দ্রততার সঙ্গে ভূমিধসের ধ্বংসস্তুপ পরিষ্কার করে চলেছে।

প্রধান জেলা কর্মকর্তা মুক্ত প্রসাদ খানাল জানান, মানাংয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হলেও ট্রেকিং অঞ্চলে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমলুং পিকের পাদদেশে তুষারধসের কবলে পড়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় ট্রেকিং কর্তৃপক্ষ ‘অন্নপূর্ণা কনজারভেশন এরিয়া প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা ট্রেকে যাওয়ার জন্য এখনো প্রায় ৭০০ ট্রেকার পোকরায় অপেক্ষা করছেন। বাণিজ্য মহলের চাপ সত্ত্বেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে রুটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া রাস্তা বন্ধ থাকায় মুক্তিনাথ মন্দিরে তীর্থযাত্রায় যাওয়া ভারতীয় পর্যটকদের গাড়ির বদলে জোমসোম থেকে পোকরায় বিমানে যাতায়াত করতে বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক যোগাযোগ চালুর পর থেকে অন্নপূর্ণা সামিটের পুরোনো ট্রেকিং ট্রেইলগুলোর বেশিরভাগই অব্যাহৃত ছিল, কেবল মানাং ও মুস্তাং জেলার কিছু ছোট অংশ ছাড়া। তবে প্রধান রাস্তার কিছু অংশ ভেসে যাওয়ায় ট্রেকাররা ফিরে আসার জন্য পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথগুলোকেই ব্যবহার করছেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com