সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
গাজা যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরেই তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ এবং জিম্মিদের দ্রুত মুক্তির দাবিতে রাজধানী তেল আবিবসহ দেশটির প্রধান শহরগুলো এখন প্রতিবাদী মানুষের দখলে।
বিক্ষোভের মূল কারণ:
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ব্যক্তিগত স্বার্থে যুদ্ধকে প্রলম্বিত করছেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরির প্রচেষ্টাকে তারা দেশের জন্য ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিক্ষোভকারীদের মতে, সরকার বন্দিদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর রবিবার (১০ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন তুঙ্গে। একদিকে ইরান ও লেবানন সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা, অন্যদিকে কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে ছাড় দেওয়ার বিতর্ক- সব মিলিয়ে দেশটিতে জনমত চরমভাবে বিভক্ত। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সাধারণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই আন্দোলন আরও বেগবান হচ্ছে।
জনতার ক্ষোভ:
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৮৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ডেভিড আলকান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন:
“আমি সরকারের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। এই সরকার প্রতিনিয়ত জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। ইরানের হুমকির চেয়েও ইসরায়েলের ভেতরের এই বিভাজনই এখন আমাদের জন্য বেশি উদ্বেগজনক।”
ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড:
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের হাতে বিচিত্র সব প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ‘বিবি এসকোবার’ সংবলিত প্ল্যাকার্ডটি। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ডাকনাম ‘বিবি’ এবং কলম্বিয়ার কুখ্যাত মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবারের নাম মিলিয়ে এই ব্যঙ্গাত্মক সম্বোধন ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ এবং ‘৭ অক্টোবর ভুলে যাও’-এর মতো স্লোগানে রাজপথ মুখরিত ছিল।
সামরিক দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহী কট্টর অর্থোডক্স গোষ্ঠীগুলোর বিশেষ সুবিধার বিরুদ্ধেও সাধারণ ইসরায়েলিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।