মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
তাহসিফ সাউরি ও দ্বীপ অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরির হত্যা মামলায় চার দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে তিনি একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে তাহসিফ, দীপ ও মামলার আরেক সন্দিগ্ধ আসামি জেরিকা তাসনিম দিশা (১৯) বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন এবং একপর্যায়ে দিশা বাসায় চলে যান। পরবর্তী সময়ে ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তিতে পৌঁছান। সেখান দিয়ে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে যাওয়ার পর কয়েকজন লোক দেখতে পেয়ে তারা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন দীপ।
ঘটনার আগে তাহসিফকে দীপ ও দিশার সঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সর্বশেষ তাদের সঙ্গেই তাহসিফকে দেখা গিয়েছিল। এ কারণে মামলার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান।
আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদনে আটটি কারণ উল্লেখ করেছে পুলিশ। কারণগুলো হলো-
১. সংগৃহীত বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক সিসি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
২. ভিকটিমের সঙ্গে আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালীন কিছু সময়ের জন্য অন্যত্র সরে গিয়ে ১৫-২০ মিনিট কোথায় যোগাযোগ করেছেন তার জন্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
৩. ভিকটিম ও আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপসহ অন্যান্যদের ব্যবহৃত প্রাসঙ্গিক মোবাইলের সিডিআর সংগ্রহ পূর্বক পর্যালোচনা করা।
৪. মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন। ৫. অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেফতার ও সনাক্তের লক্ষ্যে। ৬. আলামত উদ্ধার করার লক্ষ্যে। ৭. মোটিভ অব মার্ডার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ। ৮. হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারন করার লক্ষ্যে
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন তাহসিফ ও তার বান্ধবী। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ। মোটরসাইকেল পার্ক করে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন।
অন্য একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এ সময় তারা দীপের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা আবার মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পরে তাহসিফ সাউরির বান্ধবীকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়।
তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ওই রাতের গতিবিধি, যাতায়াত এবং বিভিন্ন স্থানে তার অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। তবে এ বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরে তাহসিফের বন্ধু দীপকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। মামলাটির তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ।