মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
জামালপুর প্রতিনিধি॥ জামালপুরের ইসলামপুরে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২ হাজার ৬৮৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪৫৮ জন। এছাড়াও এক কলেজের ফলাফল শুন্য। উপজেলার ওই ফলাফলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, ইসলামপুর উপজেলায় ১২টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৭টি মাদরাসা এবং ১৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষার্থীরা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। উপজেলার আটটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এসব পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার ৫৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও দেখা গেছে উদ্বেগজনক চিত্র। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাসের হার অত্যান্তনাজুক। গোয়ালেরচর স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার শূন্য শতাংশ। ইসলামপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, মালমারা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় ১৯ দশমিক ০৪ শতাংশ, ইসলামপুর সরকারি জে.জে.কে.এম. গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ইসলামপুর সরকারি কলেজে ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ইসলামপুর এম এ সমাজ পারভেজ মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ৩৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।
এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান হয় না। কোথাও কোথাও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহতের ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্খিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার ফলাফলে।
অভিভাবকদের আরো জানান, কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক পর্যায় থেকে স্কুল অ্যান্ড কলেজে উন্নীত হলেও কলেজ পর্যায়ের পাঠদান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা ও গ্রেড পরিবর্তনের মাধ্যমে অধ্যক্ষের পদ সৃষ্টি বা পদবি পরিবর্তন করা হলেও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ কতটা নিশ্চিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তাঁদের মতে, পদ-পদবি উন্নীত করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদানের মান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী ও মনোযোগী করে তোলা। তাঁরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে করে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইসলামপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ নূরে আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা বেগম বলেন, পাসের হার শুধু ইসলামপুরে নয়, সারা দেশেই এমন হয়েছে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারনেই এমন ফলাফল এসেছে। তবে আমরা আরো তদারকি বাড়াচ্ছি।