বৃহস্পতিবার, ০৪ Jun ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
জনদুর্ভোগ লাঘব ও সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহার করেছে সরকার। সরকারের এই জনমুখী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের লাখ লাখ প্রিপেইড বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, অসন্তোষ ও বাড়তি আর্থিক চাপের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
বুধবার (৩ জুন ২০২৬) এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান। এছাড়া বিএনপির অফিশিয়াল মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীকে জানানো হয়।
উক্ত ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জনদুর্ভোগ লাঘব ও সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করতেই প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের এই অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন যে, প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত শীঘ্রই নেওয়া হবে। মন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির আলোকেই অবশেষে এই প্রজ্ঞাপন জারি হলো।
যে আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেলেন গ্রাহকরা
বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের সাথে বাধ্যতামূলকভাবে বেশ কিছু অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হতো, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
প্রত্যাহৃত চার্জগুলোর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
ডিমান্ড চার্জ: প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ৪২ টাকা।
মিটার ভাড়া (সিঙ্গেল ফেজ): প্রতি মাসে ৪০ টাকা।
ভ্যাট: এই সমস্ত চার্জের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হওয়ায় প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমে আসবে। বিশেষ করে দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এটিকে একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন।
–ডেস্ক রিপোর্ট, জাতীয় অর্থনীতি বিভাগ।