রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক শোকপ্রকাশ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে বৈঠকের জন্য তার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন এবং শিগগিরই দুই নেতার মধ্যে সাক্ষাৎ হতে পারে।
শনিবার (৪ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহেই বৈঠক হতে পারে, যদিও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্ধারিত আন্তর্জাতিক কর্মসূচির কারণে আগামী সপ্তাহে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তার মতে, বৈঠকটি এর পরের সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার ট্রাম্পকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দুই নেতা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকে বসার বিষয়ে সম্মত হন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে যুদ্ধের প্রথম দিনেই খামেনি নিহত হন। তিনি আরও বলেন, খামেনির জানাজায় মানুষের কান্না ও শোকের বহিঃপ্রকাশ তাকে বিস্মিত করেছে। তার ধারণা ছিল, ইরানের জনগণের বড় একটি অংশ খামেনিকে সমর্থন করত না।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান বর্তমানে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে খামেনির জানাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ এক সপ্তাহের জন্য আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষই সংঘাতে জড়াবে না।
এদিকে, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’-এর উপদেষ্টা হারলান উলম্যান মন্তব্য করেছেন, খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক ‘বড় ভুল’ করেছে। খামেনির মৃত্যু তাকে অনেকের কাছে ‘শহীদ’-এর মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ৪ মাস পর তেহরানে তার রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান, জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।