শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
আবদুল্লাহ আল মামুন, নারায়ণগঞ্জ ॥
কৃতিম বন্যায় ভাসছে নারায়ণগঞ্জ জেলার ডিএন্ডডি বাঁধের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ। পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। বাসা-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কর্মস্থলে জমে গেছে পানি। বুধবার সারাদিন জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন বিসিক শিল্প নগরী, ভূইঘর, দেলপাড়া, তক্কারমাঠ,লালপুর সস্তাপুর,কাশিপুর পঞ্চবুটি,পাগলা,আলীগঞ্জ,পিলকুনী, শিহাচর ও পোষ্ট অফিস এলাকায় কোথাও হাটু আবার কোথাও কোমড় পর্যন্ত পানি জমে গেছে। খেটে খাওয়া ও দিনমজুররা কাজে যেতে না পেরে না খেয়েই জীবন-যাপন করছেন। একই সাথে বিশুদ্ধ পানিরও অভাবে ভুগছেন তারা। বৃষ্টিতে জমে যাওয়া পানিতে যুক্ত হচ্ছে আশ-পাশের মিল কারখানার নোংরা ও বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ। এতে করে উল্লেখিত এলাকার বাসিন্দারা আক্রান্ত হচ্ছে নানা চর্ম রোগে। বন্যার কারনে সাধারন মানুষকে ঘরে-বাইরে সব জায়গাতেই আশান্তি পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যেতে পরাছে না শিক্ষাঙ্গনে। কর্মজীবি মানুষেরাও একান্ত বাধ্য হয়ে কাজে যোগদান করছেন। আবার অনেকেই পানিবন্দি হয়ে বাড়ি থেকে বেরুতে পারছেন না।
বন্যা কবলিত সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরের এমন দিনে আমরা ডিএন্ডডি বাঁধের মানুষ কৃতিম বন্যার কারনে চরম দূর্ভোগে বসবাস করে আসছি। কেউই আমাদের খবর রাখে না। জমে যাওয়া বন্যার পানি অপসারনের নেই কোন ব্যবস্থা। পানির সাথে যুক্ত হচ্ছে মিল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ। পাওয়া যায়না বিশুদ্ধ পানি। নষ্ট হয়ে যায় ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট। ভুগতে হয় নানা রোগে। আর পানিবন্দিকে নিয়তি হিসেবেই ধরে নিয়েই বসবাস করছি। জানিনা কবে এ যন্ত্রনা থেকে মুক্তি যাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা বেগম জানান, পানি অপসারনের জন্য বেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। কল-কারখানার বর্জ্য পদার্থ ছরানোর বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। বাঁধের ভেতরে থাকা মানুষকে রক্ষা করতে ডিএন্ডডি’র মধ্যে কাজ করছেন সেনাবাহিনী। তাছাড়া পানিবন্দি মানুষের জন্য সব রকমের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানায় ওই কর্মকর্তা।