শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন
মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রগতি মেডিকেল হল নামের একটি ঔষধের দোকানি এক ভিক্ষুকের কাছে সামান্য দামে ঔষধ বিক্রি করায় ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতি (কলাপাড়া কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগ এ্যাসোশিয়েশন) এর কর্তারা বন্ধ করে দিয়েছে ঔষধ বিক্রেতার দোকান।
শুক্রবার সকাল থেকে সমিতির নেতাদের আল্টিমেটামের কবলে পরে ফার্মেসিটি বন্ধ রাখা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে। সমিতির এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে নেট দুনিয়া জুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন শত শত মানুষ। নেটিজনরা বলছেন, মানবিক কাজে যদি দোকানিকে মাসুল দিতে হয় তাহলে এর বিরূপ প্রভাবে আর কেউ মানবিক কারণে সহায়তার হাত বাড়াবে না।
প্রগতি মেডিকেল হলের পরিচালক সুদীপ্ত জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে অসহায় এক ভিক্ষুক তার দোকানে আসেন একটি ভিটামিন সিরাপ ক্রয়ের জন্য। কিন্তু তার কাছে ঔষধের নির্ধারিত মূল্যের অর্থ না থাকায় তাকে (Previncip compani. Primrol 450ml. Mrp 350TK) ভিটামিন সিরাপটি মানবিক কারণে মাত্র ১’শত টাকার বিনিময়ে দিয়ে দেই। এ কারনে সমিতির নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে এক দিনের জন্য ফার্মেসী বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা আরোপ করেন। শুধু তাই নয়, তাদের নির্দেশনা অমান্য করলে বড় অংকের অর্থদণ্ড করা হবে বলে হুশিয়ারী দেয় সমিতি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগ এ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল দুলাল ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বলেন, দোকান বন্ধ করতে সমিতি কোন নির্দেশনা দেয়নি। প্রগতি মেডিকেল হল ভেজাল ঔষধ বিক্রি করায় তার দায় স্বীকার করে এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রেখেছে। আর কাউকে দয়া দেখালে সে ঔষধ একেবারে ফ্রি দিবে। ওই ভিক্ষুকের কাছ থেকে সে ১০০ টাকা রেখেছে। তারা প্রায়ই কম দামে ভেজাল ঔষধ বিক্রি করে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ক্ষমতা কোন সংগঠনের রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দেননি।
অপরদিকে ফাতেমা মেডিকেল হল নামের আর একটি জনপ্রিয় ঔষেধের দোকান মালিক মোশাররফ হোসেন বলেন, এর আগে কম মূল্যে ঔষধ বিক্রির জন্য আমার কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ওই সমিতি কর্তৃপক্ষ। ঔষধের মোড়কে বেশি মূল্য লেখা (এমআরপি) ওষুধগুলো ক্রেতাদের কাছে একটু কম দামে বিক্রি করার জন্য সমিতির কাছে বহুবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা কখনোই এমআরপি’র কম টাকায় ঔষধ বিক্রির ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজি হননি।
এছাড়াও একাধিক ওষুধ দোকানীর অভিযোগ, সমিতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে এক ধরনের জুলুম পরিচালনা করা হচ্ছে। এদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেই গুনতে হচ্ছে তাদের চাপানো মোটা অংকের জরিমানা।
স্বাধীনভাবে নির্বিঘ্নে কম মূল্যে ঔষধ ক্রয়ের জন্য এধরনের অতিরিক্ত মুনাফা ভোগী সমিতির অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধসহ ঔষধ ব্যবসায় সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করতে সরকারের উর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দোকানীরা।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইয়াসিন সাদেক বলেন, কোন সমিতি বা সংগঠন কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান সিলগালা বা জরিমানা করতে পারে না। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।