শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন

উৎসবেও বিষণ্ণ আশ্রয়ণ প্রকল্প: জোটেনি নতুন জামা, ঘরে নেই সেমাই-চিনি

মজিবুর রহমান, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি ॥
দেশজুড়ে যখন চলছে ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা আর উৎসবের প্রস্তুতি, তখন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড় লক্ষণদিয়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে বইছে বিষণ্ণতার হাওয়া। অভাবের তাড়নায় এখানকার বাসিন্দাদের কাছে ঈদ মানে কেবলই ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ; যেখানে নেই নতুন পোশাকের আনন্দ, নেই সেমাই-চিনির মিষ্টতা।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে সরজমিনে আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। বেশিরভাগ ঘরেই নেই কোনো বিশেষ খাবারের আয়োজন। অনেক শিশু জানেই না যে ঈদে তারা নতুন জামা পাবে কি না।

বঞ্চিতদের আর্তনাদ:
ষাটোর্ধ্ব বিধবা কমেলা বেগম ধরা গলায় আক্ষেপ করে বলেন, “স্বামী-ছেলে কেউ নেই। নাতনির সামান্য আয়ে কোনোমতে দিন কাটে। টিসিভি কার্ড থাকলেও নিয়মিত সুবিধা পাই না। চেয়ারম্যানের কাছে বারবার গিয়েও বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কার্ড কপালে জোটেনি। এই বয়সে কই যাবো?”

অনুরূপ যন্ত্রণার কথা জানান তিন বছর ধরে এখানে থাকা জানারা বেগম। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অভাবের সংসারে মানুষের কাছে হাত পেতে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে পেট চলে তার। তিনি বলেন, “ঈদের বাজার তো দূরের কথা, ঘরে চাল-ডালই ঠিকমতো নেই।” শুধু জানারা বা কমেলা নন, রাবিয়া, সাহেরা, জিয়াসমিন ও তাসলি বেগমসহ প্রকল্পের অসংখ্য বাসিন্দার একই আর্তি- সরকার তাদের থাকার ঘর দিলেও কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই। অভাবের কারণে সন্তানদের জন্য একটি নতুন জামা কিনতে না পারার দুঃখ তাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা নিয়মিত সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত। তবে এ বিষয়ে গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, “আমি সম্প্রতি অনেককে ৫ হাজার টাকার প্যাকেজ এবং কয়েকজনকে চাউল দিয়েছি। ভবিষ্যতে আবেদন সাপেক্ষে তাদের ভাতার আওতায় আনা হবে।”

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে এখনো এই প্রকল্পের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ আসেনি। তিনি বলেন, “সরকার বিভিন্ন স্কিম তৈরি করছে। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দেবে আমরা সেভাবেই কাজ করবো। ধৈর্য ধরতে হবে, আশা করি কেউ বাদ যাবে না।”

কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিড়ে বড় লক্ষণদিয়ার এই হতভাগা মানুষগুলোর ঈদ আনন্দ এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাসে বন্দি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com