শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন

আবরার হত্যা মামলার ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ (২২) হত্যা মামলার ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত৷

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল ৯টার দিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় আসামিদের।

রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।

গত ২৮ নভেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রায়ের জন্য ৮ ডিসেম্বর নতুন দিন ধার্য করে বলেছিলেন, সাক্ষ্য ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে রায় ঘোষণার জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।

এ মামলার ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে এ দাবি করে তাদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে আসামিপক্ষ বলছে, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই আসামিরা খালাস পাবেন।

এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও এস এম মাহমুদ সেতু। আর পলাতক তিন আসামি হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তফা রাফিদ।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, ‘শিবির সন্দেহে’ তাকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী (পরে বহিষ্কৃত)।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ১৩ নভেম্বর আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান।

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় ৬০ জনের মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গত ১৪ মার্চ কারাগারে থাকা ২২ আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেননি। এরপর কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলায় কিছু ত্রুটি থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ পুনরায় অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। ৮ সেপ্টেম্বর আদালত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ গঠন করে। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে গ্রেপ্তার সব আসামি আবারও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

মামলার আট আসামি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা হলেন- ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মো. অনিক সরকার, মো. মুজাহিদুর রহমান, মো. মেহেদী হাসান রবিন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মনিরুজ্জামান মনির ও এ এস এম নাজমুস সাদাত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com