শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃ
“মেধা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের দেশ সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকার নবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে এ বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS)-এসইডিপি এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা বৃদ্ধি, গবেষণাধর্মী চিন্তার বিকাশ এবং নতুন উদ্ভাবনী ধারণা ও স্টার্টআপ সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা। মেলায় উপজেলার ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসিফ রহমান, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ এবং উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহ আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা ইসলাম।

মেলার মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, রোবোটিকস, ড্রোন প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব স্টার্টআপ আইডিয়ার প্রদর্শনী। অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি খন্দকার আবু আশফাক বলেন, “জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে দক্ষ করে তুলতে হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে তরুণদের পারদর্শী করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ ধরনের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী আয়োজন শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী ও সৃজনশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে।” এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও দিলরুবা ইসলাম বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমেই আগামী দিনের তরুণরা দেশকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত সেরা উদ্ভাবকদের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
এদিকে একই দিনে দোহার উপজেলা চত্বরে অনুরূপ একটি বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী শোকেসিং কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিগবাত উল্লাহ, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, ঢাকা জেলা যুবদলের নেতা হাশেম বেপারী, আইনজীবী আতিকুর রহমান সোহানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।