শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন
আল আমিন, গোসাইরহাট (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি ॥
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আবুপুর ফেরিঘাট এলাকায় নদীভাঙন রোধে জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় জিওব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের হুমকিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এ উদ্যোগ নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, “নদীভাঙন শুধু ভূমি হারানোর বিষয় নয়, এটি মানুষের বসতভিটা, শিক্ষা, কৃষি ও জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত হানে। তাই সরকার ভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। আবুপুর ফেরিঘাট এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ অনেকটাই কমবে বলে আমরা আশা করছি।” হুইপ অপু আরও বলেন, “সরকার শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েই থেমে নেই। নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।” তিনি এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান, গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুশরাত আরা খানম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান, গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদীভাঙনের কারণে আবুপুর ফেরিঘাট ও আশপাশের এলাকার বহু পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেকেই বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন। জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে আবুপুর ফেরিঘাটসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার নদীভাঙন ঝুঁকি কমে আসবে, রক্ষা পাবে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগেরও অবসান ঘটবে।