রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: পরিবারের একমাত্র ছেলে শিশিরের সাথে ৮ মাস আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছে বর্ষার। বিয়েতে কোন দেনা-পাওনা ছিলো না। বিয়ের পরে কণের বাড়ি থেকে জামাইয়ের জন্য ১টি করে আলমারী, শো-কেস, ড্রেসইন টেবিল দেয়া হয়। বৌভাতের দিন শিশিরের পরিবার বর্ষাকে সাজাতে উপহার দেয় সোনা-রুপার গয়না।
প্রথম ৬ মাস সুখেই কাটিছিলো তাদের। এরই মধ্যে বর্ষার হাতে সংসারের চাবিও তুলে দেয় শাশুড়ি। পর থেকেই সামান্য কথা কাটাকটি নিয়ে মনমালিন্য শুরু করে বর্ষা। দুই মাস আগে বর্ষার বাবার বাড়ি এলাকায় অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে অংশ নিবে বলে তার বাবা আসে বর্ষাকে নিতে। সেদিন বাবার সাথে যাওয়া সময় কৌশলে ঘরের আলমারিতে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণের হাড়, ৫ ভরি রুপার গহনা সাথে নিয়ে যায়। মাস গড়িয়ে গেলেও স্বামীর বাড়ি ফিরছিল না বর্ষা। এসময় নানা বিষয় নিয়ে কথা শিশিরের সাথে কাটাকাটি হতো।
কয়েকদিন পর স্বামীর বাড়ি যাবে বলে বর্ষা ও তার পরিবারের লোকজন সম্মতি দেয়। শিশির তার পরিবারের লোকজন নিয়ে বর্ষাকে আনতে যায়। সেখানে আগে থেকেই এলাকার বিশিষ্টজনদের জানানো ছিল। বিকেলে সেখানে শাসিল বৈঠক বসানো হয়। বর্ষা জানিয়ে দেয় সে স্বামীর বাড়ি যাবে না। তার পরিবারেরও সেখানে সম্মতি না থাকায় শিশির ফিরে আসে। সপ্তাহ খানেক পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের হাতে হলফনামার মাধ্যমে ছাড়াছাড়ির একটি কাগজ আসে। এভাবেই শেষ হয় ৬ মাসের একটি সংসারের জবনিকা।
ঘটনাটি এভাবেই জানাচ্ছিলেন ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের সাতভিটা গ্রামের শিশির সরকার। তিনি ঐ গ্রামের রাধেশ্যাম সরকারের ছেলে। গহনা ও টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দোহার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান শিশির।
১৮ এপ্রিল (শনিবার) বিকালে নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে এমনি অভিযোগ করেন শিশির সরকার।
শিশির জানান, তিনি পরিবারের একমাত্র সন্তান। গত বছর ১২ জুলাই তিনি প্রবাস কাতার থেকে দেশে আসেন। পরে ৮ আগষ্ট মানিকগঞ্জের হাটিপাড়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা গ্রামের কাঠমিস্ত্রি হরিদাস সরকারের বড় মেয়ে বর্ষা সরকারের সাথে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসারের চাবি বর্ষার কাছে ছিলো। গয়না, টাকা থেকে আলমারির চাবি সবই ওর কাছে থাকতো। ৬ মাস না যেতেই সামান্য বিষয়ে কথা কাটাকটি হয়। এতে অজ্ঞাত কারণে তার অভিমান বাড়তেই থাকে।
শিশির অভিযোগ করেন, সেদিন হাসি মনে বাবা সাথে বাড়ি যাচ্ছিলো বর্ষা। যাওয়ার সময় কৌশলে আলমারিতে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, দুই ভরি ওজনের একটি সোনার হাড়, ৫ ভরির রুপার গহনা সাথে নিয়ে যায়। নেয়ার পর থেকেই তারা অস্বীকার করছেন।
এদিকে, হলফনামার মাধ্যমে শিশির ও বর্ষার সম্পর্ক ছেদের সেই কাগজে কারণ উল্লেখ করা হয়, তাদের মতের অমিল থাকায় তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বিধায় বর্ষা সম্পর্ক ত্যাগ করলেন।
এবিষয়ে বর্ষা সরকারের বাবা হরিদাস সরকার মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান, জামাই নেশাগ্রস্থ। আবার মেয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তাই বর্ষা ওকে ডিভোর্স দিয়েছে। টাকা ও গয়না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ওরা আমার মেয়েকে এসব দেয়নি।
এবিষয়ে বর্ষা মন্ডলের মুঠোফোন নম্বরে কয়েকবার সংযোগ দেয়া হলে অপর প্রান্ত থেকে কেটে দেয়া হয়।
এঘটনায় দোহার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিশির সরকার। অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা দোহার থানার শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম জানান, বিবাদীর পরিবার এ ঘটনা আমলে নিচ্ছেন না। বাদী শিশির সরকারকে আইনের দারস্থ থাকার জন্য বলা হয়েছে।