শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনলাইন প্রতিবেদক:: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত দুই সরকারের গাফিলতিতে হাম ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হামের প্রাদুর্ভাব থেকে বহু শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। আগামীতে একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়া তুলা জরুরি।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউএইচএফপিও সম্মেলন-২০২৬ শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, এটি স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
সরকার স্বাস্থ্য খাতে ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা শক্তিশালী করা এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পূর্ণাঙ্গ মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বলেন, ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার; যার ৮০ শতাংশই থাকবে নারী।
তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার পাশাপাশি ই-হেলথ কার্ড চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ ও সহজ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার নেতৃত্ব, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। স্বাস্থ্য খাতে কাঠামোগত ও জনবল ঘাটতি দূর করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা জোরদার ও দেশের স্বাস্থ্যসেবা যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)’ মডেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের চলাচলের জন্য গাড়ির তেল ও চালকের ব্যবস্থা করবে সরকার। তবে এ জন্য আন্তর্জাতিক সমস্যা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়াও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন– স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।