রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিদেশি বিনিয়োগে ধস: এক প্রান্তিকে কমল ১৮%

নিজস্ব প্রতিবেদক, ইকোনমিক ডেস্ক ॥
দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১৮.৪২ শতাংশ।

বিনিয়োগের চিত্র: সংখ্যাতত্ত্বের বয়ান বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে নিট এফডিআই এসেছে মাত্র ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ২০২৪ সালের ঠিক একই সময়ে এই অংক ছিল ১৩ কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।

শুধু নতুন বিনিয়োগই নয়, কমেছে পুনঃবিনিয়োগকৃত মুনাফাও (রি-ইনভেস্টেড আর্নিংস)। এক বছরের ব্যবধানে এটি প্রায় ৩৫.৩১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৭৪ লাখ ডলারে, যা আগের বছর ছিল ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। মূলত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অর্জিত মুনাফা লভ্যাংশ হিসেবে বাইরে না পাঠিয়ে পুনরায় বিনিয়োগ করার হার কমিয়ে দিয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

অনিশ্চয়তা ও রোডম্যাপের অভাব বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে বলেন:
“সে সময় রাজনৈতিক সমঝোতা কোন দিকে যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। নির্বাচন নিয়ে পরিষ্কার রোডম্যাপ না থাকায় বিনিয়োগের পরিবেশ বলতে কিছু ছিল না। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জানতেন অন্তর্বর্তী সরকার স্থায়ী হবে না, তাই এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ আসাটাই ছিল অস্বাভাবিক।”

কাঠামোগত সংকট ও উচ্চ ব্যয় সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, কেবল রাজনৈতিক কারণই নয়, বরং কাঠামোগত সমস্যাও বড় বাধা। তিনি জানান:
সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থার অকার্যকারিতা।

উচ্চ ব্যবসায়িক ব্যয় ও নীতিগত জটিলতা।

বন্দর ও লজিস্টিক সাপোর্টের সীমাবদ্ধতা।

তিনি আরও যোগ করেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলেও ওই প্রান্তিকে চরম শঙ্কা ছিল। তবে শুধু নির্বাচিত সরকার এলেই বিনিয়োগ বাড়বে না; বিনিয়োগকারীরা সবার আগে সুযোগ-সুবিধা ও সক্ষমতা মূল্যায়ন করেন।”

আস্থার সংকটে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ইকুইটি, পুনঃবিনিয়োগ এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ- এই তিন উৎস মিলিয়ে মোট বিদেশি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার ডলারে, যা আগের বছর ছিল ৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু বিদেশি নয়, দেশি উদ্যোক্তারাও নতুন বিনিয়োগে হাত দিচ্ছেন না। নীতিগত সমস্যার সমাধান এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা না বাড়ালে আগামী দিনেও এই স্থবিরতা কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com