মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন

সফলতা তখনই অর্থবহ, যখন নিজের অর্জন অন্য মানুষের জীবন বদলে দেয়

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৃতী সন্তান মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ্

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সমাজে কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের পরিচয় কোনো পদবি, পেশা কিংবা প্রতিষ্ঠানের গন্ডিতে আটকে থাকে না। তাঁদের জীবন হয়ে ওঠে সংগ্রাম, সাফল্য, মানবিকতা ও নেতৃত্বের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। তাঁরা নিজের সাফল্যের চেয়ে মানুষের সাফল্যে আনন্দ খুঁজে পান, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে সমাজের উন্নয়নকে বড় করে দেখেন। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৃতী সন্তান মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ্ তেমনই এক আলোকিত ব্যক্তিত্ব; যাঁর জীবনগাথা আজ উদ্যোক্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।

দেশের করপোরেট অঙ্গনে একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা, ক্রীড়াঙ্গনে দূরদর্শী সংগঠক এবং সমাজের অসহায় মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে তিনি সমানভাবে পরিচিত। তাঁর বিশ্বাস “মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন নিজের জন্য কিছু করা নয়; প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে, যখন নিজের কর্মে অন্য মানুষের জীবন আলোকিত করা যায়।” এই দর্শনই তাঁর প্রতিটি কর্মপরিকল্পনা ও সামাজিক উদ্যোগের মূল শক্তি।

মেধা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক আলোকিত পথচলা ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বান্দুরার মাটিতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ্ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী, আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বগুণে অনন্য। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শতবর্ষী বান্দুরা হলিক্রশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে হেডওয়ে ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে করপোরেট নেতৃত্বের ভিত্তি আরও শক্ত করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি যেমন একজন কৃতী শিক্ষার্থী ছিলেন, তেমনি ফুটবল, হ্যান্ডবল ও অ্যাথলেটিকসে ছিলেন পরিচিত মুখ। খেলাধুলা, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁর ব্যক্তিত্বকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর মা যাঁর ভালোবাসা, দোয়া ও মূল্যবোধ আজও তাঁর পথচলার প্রেরণা।

ওষুধ শিল্পে কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি উপলব্ধি করেন, বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদন সম্ভব। সেই উপলব্ধি থেকেই জন্ম নেয় এক সাহসী স্বপ্ন দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতায় গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। আজ সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাতারে নিয়ে যেতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এভারেস্ট এগ্রি অ্যান্ড ফ্রুটিকালচার লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে কৃষি, শিল্প ও করপোরেট উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দূরদর্শী পরিকল্পনা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সমন্বয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল করপোরেট নেতার আসনে। ক্রীড়াঙ্গনে নিবেদিত এক সংগঠকের নাম করপোরেট ব্যস্ততা কখনোই তাঁকে খেলাধুলা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সুস্থ জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি হলো খেলাধুলা। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফুটবল, হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার প্রসার ও উন্নয়নে তাঁর অবদান ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক ভাবে প্রশংসিত। তাঁর মতে, “খেলাধুলা শুধু খেলোয়াড় তৈরি করে না; এটি একজন দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দেশপ্রেমিক নাগরিকও গড়ে তোলে।”

২৬ বছরের এক সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব নিজ এলাকা পুরাতন বান্দুরার যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তিনি পুরাতন বান্দুরা নবীন সেতু সংঘের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। সংগঠনের মূলমন্ত্র “এসো যুবক মাঠে লড়ি, মাদক মুক্ত দেশ গড়ি।”তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আজ নবাবগঞ্জের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া আয়োজন। একসময় অর্থসংকটে টুর্নামেন্টটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও ব্যক্তিগত ত্যাগ, দৃঢ় নেতৃত্ব ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে তিনি টানা ২৬ বছর ধরে এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। আজ এটি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; বরং যুব সমাজকে সুস্থ, সচেতন ও মাদকমুক্ত রাখার এক সফল সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। মানুষের মুখের হাসিই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ্ বিশ্বাস করেন, প্রকৃত সম্মান আসে মানুষের ভালোবাসা থেকে।
অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, দরিদ্র কন্যার বিয়েতে সহযোগিতা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এসব মানবিক কর্মকান্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কাজ করে চলেছেন। নিজের বাবা-মায়ের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ফাতেমা মনসুর ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মপ্রত্যাশীদের আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি পুরাতন বান্দুরায় একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস একাডেমি, সাধারণ মানুষের জন্য একটি আধুনিক সেবামূলক হাসপাতাল, এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের উদ্যোগে বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল এবং যুব সমাজের দক্ষতা বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর প্রিয় দর্শন “ঋড়ড়ঃনধষষ টহরঃবং ঃযব ডড়ৎষফ”। তাঁর বিশ্বাস, খেলাধুলা মানুষকে বিভক্ত করে না; বরং ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধনের সেতুবন্ধন তৈরি করে।

একজন মানুষ, একটি দর্শন, একটি অনুপ্রেরণা মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ্ আজ প্রমাণ করেছেন সফলতা কেবল সম্পদ, পদ বা প্রতিষ্ঠানের নাম নয়; সফলতা মানুষের আস্থা অর্জনের মধ্যেই নিহিত। তিনি এমন একজন স্বপ্নসারথি, যিনি বিশ্বাস করেন ” যে স্বপ্ন শুধু নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য দেখা হয়, সেই স্বপ্নই একদিন ইতিহাস হয়ে ওঠে।” নবাবগঞ্জের মাটি থেকে উঠে এসে করপোরেট সাফল্য, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং মানব কল্যাণকে একই সুতোয় গেঁথে তিনি নির্মাণ করেছেন এক অনন্য জীবনগাথা। তাঁর জীবন শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের ইতিহাস নয়; এটি নেতৃত্ব, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সমাজ পরিবর্তনের এক অনুপ্রেরণাময় অধ্যায় যা আগামী প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে, লড়তে এবং মানুষের জন্য কাজ করতে সাহস জোগাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com