মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর তুরাগে বাড়িভাড়ার টাকা চাওয়ায় যুবককে মারধরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর তুরাগে বাড়িভাড়া চাওয়ায় বাড়ি মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই ভাড়াটিয়া ও এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী(জিডি) করেছে বাড়ি মালিক আমির আল ইসলাম খান৷

থানার সাধারণ ডায়েরী(জিডি) সূত্রে জানা গেছে, তুরাগ হারিরামপুর রানা ভোলা গ্রামের বাসিন্দা আমির আল ইসলাম৷ তার নিজস্ব বাড়ি ভাড়া দিয়েছে ভাড়াটিয়া মিঠু ও আজাদের কাছে৷ বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িভাড়া টাকা দিবে বলে বাড়ি মালিককে ঘুরিয়েছেন ভাড়াটিয়া মো. মিঠু ও মো. আজাদ।

একই ধারাবাহিকতায় ওই এলাকায় গত ২২ জুলাই বুধবার রাত ৮ টার দিকে মিঠু ও আজাদের কাছে বাড়িভাড়ার টাকা চায় বাড়ি মালিক আমির আল ইসলাম খান। টাকা দিবে না বলে অস্বীকৃতি জানান দুই ভাড়াটিয়া। পরে, স্থানীয় তুরাগ থানা যুবদল নেতা মো. জুয়েলকে নিয়ে হাজির হয় মিঠু ও আজাদ। ঘটনাস্থলে আমিরের মা খাদিজা বেগম উপস্থিত ছিলেন। আমিরের সাথে জুয়েল, মিঠু ও আজাদের কথাকাটির এক পর্যায়ে জুয়েলের নেতৃত্বে আমিরের উপর অতর্কিত মারধর করে জখম করা হয়৷ আমিরের মা খাদিজা বেগম এগিয়ে আসলে তাঁকেও মারধর করেন জুয়েল, মিঠু ও আজাদ৷ একপর্যায়ে আমির গুরুতর আহত হয়ে পড়ে। আহত অবস্থায় আমির ও তাঁর মা খাদিজা বেগম শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে পৌঁছে চিকিৎসা নেয়৷

ঘটনার এমন বর্ণনা তাৎক্ষণিক ওই দিন রাতেই তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি(জিডি) করেন আমির৷

আমির আল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘ মিঠু ও আজাদের কাছে আমাদের বাড়ি ভাড়া দিয়েছি৷ ঠিকমতো ভাড়ার টাকা দেয় না বলে একাধিকবার চেয়েছি৷ দেই দিচ্ছি বলেও দেয়নি৷ সর্বশেষ গত বুধবার রাত ৮ টার দিকে টাকা চাইলে যুবদল নেতা জুয়েলকে নিয়ে হাজির হয়৷ পরে জুয়েলের নেতৃত্বে আমাকে ও আমার মা’কে মারধর করা হয়৷

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি৷ আমি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি জানাবো এই জুয়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক৷ তিনি(জুয়েল) দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করেন৷ কোন কারন ছাড়াই আমাদের মারধর করেছেন৷ আমরা চাই তাঁর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক৷ তার এমম কর্মকাণ্ডে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে আমি মনে করি৷

এ ঘটনা জানতে জুয়েলকে এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে সংযোগ দেন৷ নিশ্চিত করেন তিনি তুরাগ থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব৷ সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি জানান, ‘আমি গ্রামের বাড়িতে এসেছি৷ পরে কথা বলবো বলে সংযোগ কেটে দেন৷
মিঠু ও আজাদের সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তাঁদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি৷

এ বিষয়ে ডিএমপির তুরাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরী(জিডি) করেছেন আমির আল ইসলাম। জিডি তদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে৷ অনুমতি পেলে পুলিশ তদন্ত করার পর ঘটনার মূল কারণ জানা যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com