রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

মাহ্দী আমিন চাঁদপুরের মাটি থেকে রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে

মাহ্দী আমিন চাঁদপুরের মাটি থেকে রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে

মোবারক আলী ঃ ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই আমাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়। আমি মোবারক আলী আল ফারাজ ইন্টারন্যাশনাল-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম চাঁদপুরের সেই জনপদে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নম্বর চান্দ্রা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়া গ্রামে। মেঘনা-ঘেরা চাঁদপুরের মানুষের সহজ-সরল জীবন, পথের ধুলো, চায়ের দোকানের আড্ডা আর আপনজনের মতো করে কথা বলার অভ্যাসের মধ্যে সেদিন হঠাৎ একটি নাম বারবার আমার কানে আসতে লাগল—মাহ্দী আমিন।

প্রথমে বিষয়টি আমার কৌতূহল জাগাল। রাজনীতির অনেক নাম আমরা প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় দেখি, টেলিভিশনের পর্দায় শুনি; কিন্তু কোনো মানুষের প্রকৃত পরিচয়ের একটি আলাদা আয়না আছে সেটি হলো তাঁর নিজের এলাকার মানুষের মুখ।
দক্ষিণ বালিয়ার মানুষের মুখে মাহ্দী আমিনকে নিয়ে যে প্রশংসা শুনলাম, তাতে মনে হলো দূরদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি কিংবা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ একজন মানুষকে যতটা পরিচিত করে, তার জন্মভূমির মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া হয়তো তার চেয়েও ভিন্ন এক পরিচয়।

সেদিনের সেই অভিজ্ঞতাই আমাকে তাঁর সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহী করে তোলে। অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখতে পেলাম, দক্ষিণ বালিয়ার সেই মাটির সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষটির পথচলা বেশ দীর্ঘ; আর সেই পথের বাঁকে বাঁকে আছে শিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, নীতিচিন্তা, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে উঠে আসার গল্প।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নম্বর চান্দ্রা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়া গ্রামের গণি পাটওয়ারী বাড়ির সন্তান মাহ্দী আমিন। তাঁর পিতা নাম মো. রুহুল আমিন পাটওয়ারী ছিলেন এলাকার একজন সম্মানিত গুণীজন । ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি পিতার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দাদার কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছিলেন—শেকড়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের একটি মানবিক ছবিও সেখানে ফুটে ওঠে।

দক্ষিণ বালিয়া হয়তো বিশ্বের মানচিত্রে খুব বড় কোনো বিন্দু নয়; কিন্তু একটি মানুষের জীবনের মানচিত্রে জন্মভূমির বিন্দুটি কখনো ছোট হয় না। মানুষ যত দূরেই যাক, যত বড় প্রতিষ্ঠানের দরজায় দাঁড়াক, শৈশবের মাটি তার স্মৃতির ভেতর নীরবে বেঁচে থাকে। মাহ্দী আমিনের ক্ষেত্রেও সেই শেকড়ের পরিচয় তাঁর জীবনের গল্পকে আলাদা মাত্রা দেয়।

তাঁর শিক্ষাজীবনের দিকে তাকালে বোঝা যায়, তাঁর পথচলার অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল জ্ঞান ও গবেষণা। ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের শিক্ষাজীবন পেরিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের Middlesex University-তে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে London School of Economics-এ Public Policy-এর Political Economy বিষয়ে পড়াশোনা করেন। বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে তাঁর University of Cambridge-এ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কথাও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তাঁর শিক্ষাযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি আসে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১০ সালে University of Cambridge থেকে তিনি Modern South Asian Studies-এ MPhil সম্পন্ন করেন। কেমব্রিজের গবেষণার পরিসর তাঁর চিন্তার জগতকে আরও বিস্তৃত করে। দক্ষিণ এশিয়ার সমাজ, রাষ্ট্র, নীতি ও উন্নয়ন নিয়ে ভাবার সুযোগ তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কেমব্রিজ তাঁর জন্য শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল না; যেন বাংলাদেশের বাস্তবতাকে দূর থেকে নতুন চোখে দেখার একটি জানালা। গবেষণার টেবিলে বসে যে প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবা হয়, সেগুলোর উত্তর বাস্তব জীবনে কতটা কার্যকর—সেই পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে আসে রাজনীতির বাস্তব অঙ্গনে।

তাঁর পেশাগত জীবনও ছিল বৈচিত্র্যময়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে IBM, British Telecom, Jaguar Land Rover, Westfield, London Development Corporation-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তাঁর অভিজ্ঞতার একটি অংশ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক পেশাজগতের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে, আর অন্য অংশ তৈরি হয়েছে গবেষণা ও নীতিবিশ্লেষণের জগতে। তিনি Bangladesh Policy Forum Cambridge-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবেও পরিচিত। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার আর্থসামাজিক উন্নয়ন, নীতি ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে কাজ করার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। এখানেই মাহ্দী আমিনের গল্পটি একটু ভিন্ন হয়ে ওঠে। কারণ অনেকেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন রাজনীতির মাঠ থেকে; তাঁর ক্ষেত্রে পথটি অনেকটা উল্টো—গবেষণা, নীতি, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পথ ধরে তিনি রাজনীতির নীতিনির্ধারণী পরিসরে প্রবেশ করেন। তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও নীতিগত সম্পৃক্ততার শুরু কেমব্রিজে অবস্থানকালে। ২০১৪ সালে তাঁকে তারেক রহমানের শিক্ষা ও গবেষণা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের খবর প্রকাশিত হয়। তখন তাঁকে কেমব্রিজের গবেষক এবং Bangladesh Policy Forum Cambridge-এর সভাপতি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

একজন গবেষক যখন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন, তখন তাঁর সামনে দুটি পথ থাকে- শুধু রাজনীতির ভাষা শেখা, অথবা রাজনীতিকে গবেষণার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করা। মাহ্দী আমিনের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডে দ্বিতীয় প্রবণতাটিই বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, যুবসমাজ, নারী ক্ষমতায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কার—এসব বিষয়ে বিএনপির নীতিগত আলোচনায় তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৪ সালে তিনি বিএনপির Foreign Affairs Advisory Committee-এর সদস্য হন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ফলে গবেষণা ও নীতির পরিসর থেকে তাঁর পরিচয় আরও দৃশ্যমানভাবে রাজনৈতিক যোগাযোগের অঙ্গনে বিস্তৃত হয়। তারপর আসে তাঁর জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের পর মাহ্দী আমিনকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দায়িত্বের আওতায় রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এরপর ৫ এপ্রিল ২০২৬ তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের দায়িত্বও দেওয়া হয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক তথ্য প্রেস, মিডিয়া বা অন্য মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে তিনি মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কেমব্রিজের গবেষণার টেবিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব—এই পথটিকে যদি একটি নদীর সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে বলা যায়, নদীটি একদিনে তৈরি হয়নি। ছোট ছোট স্রোত এসে যেমন নদীকে পূর্ণতা দেয়, তেমনি শিক্ষা, গবেষণা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, নীতিচিন্তা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বহু স্রোত মিলেই মাহ্দী আমিনের বর্তমান অবস্থান তৈরি করেছে।

একজন ছাত্র থেকে গবেষক, গবেষক থেকে নীতিবিশ্লেষক, নীতিবিশ্লেষক থেকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং সেখান থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে—এই রূপান্তরের প্রতিটি ধাপের সঙ্গে সময়ের একটি করে অধ্যায় জড়িয়ে আছে। আর তাঁর গল্পের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হয়তো এখানেই—বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোর যতই দূরের হোক, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সভাকক্ষ যতই আলোকিত হোক, তাঁর জীবনের শেকড় রয়ে গেছে চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়ার সেই মাটিতেই। একদিকে কেমব্রিজের গ্রন্থাগার, অন্যদিকে চাঁদপুরের গ্রামের পথ। একদিকে রাষ্ট্রনীতি ও Public Policy-এর তাত্ত্বিক আলোচনা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা।

একদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে নিজের এলাকার মানুষের প্রত্যাশা। একজন মানুষের জীবন যখন এই দুই প্রান্তকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে, তখন তাঁর গল্প কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প থাকে না; সেটি হয়ে ওঠে একটি প্রজন্মের সম্ভাবনার গল্প।

আজ তাঁর দায়িত্বের পরিধিও সেই কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষা মানে শুধু পাঠ্যবই বা পরীক্ষার ফল নয়; একটি জাতির চিন্তার ভিত নির্মাণ। প্রাথমিক শিক্ষা মানে শিশুর হাতে ভবিষ্যতের প্রথম অক্ষর তুলে দেওয়া। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মানে দেশের অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন, শ্রম ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত থাকা। আর শ্রম ও কর্মসংস্থান মানে একজন তরুণের দীর্ঘ অপেক্ষার পর হাতে ওঠা একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ, একটি পরিবারের মুখে ফিরে আসা স্বস্তি।

এই দায়িত্বগুলো তাই কেবল মন্ত্রণালয়ের ফাইলের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রতিটি পাতার ওপারে আছে অসংখ্য মানুষের জীবন।
সাম্প্রতিক সময়ে মাহ্দী আমিনের প্রকাশ্য বক্তব্যেও শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সুশাসন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও জনকল্যাণের মতো বিষয় উঠে এসেছে। যেমন, শিক্ষাবিষয়ক দায়িত্বে তিনি শিক্ষা কেবল সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়, মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনের দীর্ঘ যাত্রা—এমন বক্তব্য দিয়েছেন। কর্মসংস্থানকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবেও তিনি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন।

অবশ্য একজন নীতিনির্ধারকের বক্তব্য আর তাঁর দায়িত্ব পালনের বাস্তব ফলাফল এক জিনিস নয়। বক্তব্যের সৌন্দর্যকে বাস্তবতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় কাজের মাধ্যমে। আর সেই জায়গাটিই শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তাই দক্ষিণ বালিয়ার মানুষের মুখে যে প্রশংসা আমি শুনেছিলাম, সেটিকে আমি একটি অনুভূতির সাক্ষ্য হিসেবে দেখি; আর তাঁর শিক্ষা, গবেষণা, পেশাগত জীবন ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে দেখি নথিভুক্ত পথচলার অংশ হিসেবে। দুটিকে একসঙ্গে রাখলে মানুষটিকে বোঝার ছবিটি হয়তো আরও পূর্ণ হয়।

মানুষের মুখের প্রশংসা হৃদয় ছুঁয়ে যায়, কিন্তু ইতিহাস তার চেয়েও কঠিন। ইতিহাস পদবি দেখে না, পরিচয়ের চাকচিক্য দেখে না; ইতিহাস শেষ পর্যন্ত মানুষের কাজের দিকে তাকায়। মাহ্দী আমিনের সামনে এখন সেই কঠিন বাস্তবতার সময়। যে গবেষণার টেবিলে বসে তিনি রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ে ভেবেছেন, এখন সেই চিন্তার কিছু অংশ বাস্তব নীতির সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তাঁর হাতে। যে শিক্ষা ও দক্ষতা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কথা বলেছেন, এখন সেই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব তাঁর ওপর। যে কর্মসংস্থানের কথা নীতির আলোচনায় এসেছে, এখন তার বাস্তবায়নের সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব জড়িয়ে গেছে।

এ যেন দূর থেকে নদীর স্রোত নিয়ে গবেষণা করার পর একদিন সেই নদীর ঘাটে এসে দাঁড়ানো- এখন শুধু স্রোত দেখা নয়, স্রোতের দিকটিও বুঝতে হবে। সেদিন চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়ায় দাঁড়িয়ে মানুষের মুখে মাহ্দী আমিনের প্রশংসা শুনেছিলাম। তখন হয়তো বুঝিনি, সেই প্রশংসার পেছনে শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির পরিচয় নয়, একটি দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রা, গবেষণার বহু অধ্যায় বিদ্যমান, আন্তর্জাতিক পেশাজীবনের অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্রকে নিয়ে বহু বছরের চিন্তার গল্পও লুকিয়ে আছে।

আজ তাঁর জীবন ও পথচলা সম্পর্কে যতটুকু জানা গেল, তাতে মনে হলো—মানুষের জীবনের পথ কখনো সরলরেখা নয়। কোথাও থাকে নদীর বাঁক, কোথাও থাকে অন্ধকার, কোথাও থাকে দূর আকাশের ডাক। কেউ সেই ডাক শুনে থেমে যায়, কেউ পথ বদলায়, আবার কেউ নিজের শেকড়কে সঙ্গে নিয়ে আরও দূরে এগিয়ে যায়। মাহ্দী আমিনের গল্পটি সেই এগিয়ে যাওয়ার গল্প। চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়ার মাটি থেকে কেমব্রিজের গবেষণাকক্ষ, আন্তর্জাতিক পেশাজীবন থেকে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণের কেন্দ্র-দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন, সেটি তাঁর জীবনের কোনো চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়; বরং দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। কারণ পদবি মানুষের পরিচয়কে বড় করতে পারে, কিন্তু মানুষের কাজই সেই পরিচয়কে স্থায়ী করে।

সেদিন দক্ষিণ বালিয়ায় মানুষের মুখে যে প্রশংসা শুনে তাঁকে নিয়ে জানার আগ্রহ জন্মেছিল, আজ তাঁর জীবন ও পথচলার তথ্য ঘেঁটে মনে হলো—একজন মানুষকে বুঝতে হলে শুধু তাঁর পদবি জানা যথেষ্ট নয়; জানতে হয় তাঁর শেকড়, তাঁর শিক্ষার পথ, তাঁর চিন্তার জগৎ, তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গল্প। শেষ পর্যন্ত একটি কথাই মনে হয় মানুষ কোথা থেকে এসেছে, সেটি তার পরিচয়ের শুরু; কিন্তু সে মানুষের জন্য কী রেখে গেল, সেটিই তার পরিচয়ের পূর্ণতা। মাহ্দী আমিনের জীবনের বর্তমান ঠিকানা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জায়গায়। কিন্তু তাঁর গল্পের শুরু সেই বহুদূরের কোনো সরকারি দপ্তরে নয়—শুরু হয়েছিল একটি মাটির ঘ্রাণমাখা জনপদে, চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়ায়।

সেখান থেকে জ্ঞানের পথে যাত্রা, গবেষণার জগতে প্রবেশ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন, নীতিচিন্তার সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে এসে দাঁড়ানো- এই দীর্ঘ পথচলাই আজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। আর তাঁর এলাকার মানুষের মুখে যে প্রশংসা আমি শুনেছিলাম, সেটি আমার কাছে সেই গল্পের একটি মানবিক অধ্যায় হয়ে রইল।
আর বাকি মূল্যায়ন? সেটি মানুষের হাতে, কাজের হাতে এবং সর্বোপরি সময়ের হাতে।

স্বত্বাধিকারী : আল ফারাজ ইন্টারন্যাশনাল, ঢাকা বাংলাদেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com