শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
নিহত মুরছালিন। ছবি: সংগৃহীত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা:: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) মধ্যরাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে ঘটনাটি ঘটে।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন-৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
নিহত মোরছালিন গোপীনাথপুর ইউনিয়নেন ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে। তিনি গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আরেক নিহত ৪০ বছর বয়সী নবীর হোসেনের বাড়ি মধুপুর গ্রামে। তাদের মরদেহ আগরতলার জিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় যান। বিএসএফ তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মুরছালিন নিহত হন। আহত হন নবীর হোসেন। পরে তাদের ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফের সদস্যরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবীর হোসেন মারা যান।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে মরদেহ নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন-৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে সীমান্তে ১৫ জন বাংলাদেশী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে আনুমানিক ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের চোরাচালানে বাধা দিলে বাংলাদেশী চোরাকারবারী বিএসএফ সদস্যরদের উপর চড়াও হয়। পরে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা চোরাকারবারীর গুলি করলে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। আহত অপরজন ভারতের একটি হাসপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।