শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

দারোগা আজাদের দম্ভোক্তি ও হয়রানীতে অতিষ্ঠ কালীগঞ্জবাসী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
“এই শালা তুই দাঁড়া, তোর কাছে ইয়াবা আছে” এভাবে গড়াই পরিবহনের একটি বাস থেকে সোহেল নামের এক যুবককে নামিয়ে নিয়ে তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাসী চালানো হয়। তল্লাসী শেষে ব্যাগে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এলোমেলো করে ফেলে দেয় পুলিশ। সে সময়ে কালীগঞ্জে থাকা ওই যুবকের এক নিকট আতœীয়ের কাছে সে ফোন করতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয়। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে উপস্থিত শত শত মানুষ। পরে সোহেল নামের ওই যুবকের কাগজপত্র এলোমেলে করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা দেয়া হয়। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ ও কনস্টেবল আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসটার্মিনালে। সোহেল কালীগঞ্জের এক আতœীয়ের বাড়ি থেকে ঝিনাইদহে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিল। শুধু সোহেল নয় প্রতিদিন অনেকেই দারোগা আজাদের এমন হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এছাড়া এই দারোগার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষগ্রহণ, চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুুষকে হয়রানীর অভিযোগও পাওয়া গেছে। দারোগা আবুল কালাম আজাদের কারনে গোটা থানা পুলিশের ভাবমূর্তি দারুনভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।
জানাগেছে, এসআই আবুল কালাম আজাদ কালীগঞ্জ থানায় প্রায় ১০ মাস পূর্বে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি বেশ কয়েকজন পুরাতন পুলিশ কনস্টেবলদের সাথে বিভিন্ন সময়ে মাদক স্পটে অভিযান, তাদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন, আসামি ধরে টাকা বিনিময়ে রাস্তা থেকে ছেড়ে দেয়া, চেক পোস্ট বসিয়ে ঘুষ নেয়াসহ সাধারণ মানুষকে হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা-খুলনা ও কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর রোডে স্পেশাল ডিউটি করার সময় শহরের বাস-ট্রাক, মাইক্রো, মটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষার নামে দারোগা আজাদ ঘুষ নিয়ে থাকেন। এছাড়া তার ডিউটির দিন শহরের সুগারমিল মোড় ও কোটচাঁদপুর সড়কের বেঁেদ পল্লী মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ীর কাগজপত্র পরীক্ষার নামে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করে থাকেন বলে একাধিক ভুক্তভোগি অভিযোগ করেন। এভাবে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে হয়রানী করছেন দারোগা আবুল কালাম আজাদ। এই দারোগা যে কোন ব্যক্তিকে আটক করে তার সাথে তুই তুকারি ভাষাতে কথা বলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগাজা করেন। তার মধ্যে পুলিশের শৃংখলাবোধ বলতে কিছুই নেই বলেও একাধিক ব্যক্তি জানায়। তার বেপরোয়া ক্ষমতার দাপটে কালীগঞ্জ বাসী অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে এসআই আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের একটি ইনফরমেশন ছিল। তাই দুই তিনজনকে টার্গের করে তাদের চেক করি। কিন্তু কিছু পায়নি। সে সময় সোহেলকেও চেক করা হয়েছিল। তার সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com