শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. আব্দুস সালাম মল্লিককে ঘিরে দুর্নীতি, টেন্ডার অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় তার আয়ের উৎস ও সম্পদের বৈধতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সালাম মল্লিক প্রথমে বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার দায়িত্বকালে তিনি প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং পৌরসভার আর্থিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি তার প্রভাব বজায় রাখেন। এ সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য, অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে বিল উত্তোলন, ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুত এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সীমিত বেতনের চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও আব্দুস সালাম মল্লিকের নামে বা তার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাকেরগঞ্জ চৌমাথা সিনেমা হলের পেছনে একটি প্লট কিনে সেখানে ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে তার সম্পদ বৃদ্ধির সূচনা হয়। পরবর্তীতে হেলিপোর্ট সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১২ শতাংশ জমি, রোহিতারপাড় এলাকায় সিএনবি সড়কের পাশে প্রায় ২৮ শতাংশ জমির ওপর বাগানবাড়ি, বরিশাল সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় একটি প্লট এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকাতেও জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি বাকেরগঞ্জ পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক স্বাস্থ্য সহকারীকে বিয়ে করেন। এছাড়া তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের অসামঞ্জস্য দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়। তাদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করুক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. আব্দুস সালাম মল্লিকের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন পৌরসভার কর্মকর্তা কীভাবে স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন? টেন্ডার ও বিল-ভাউচার সংক্রান্ত অভিযোগের আড়ালে কোনো সংঘবদ্ধ দুর্নীতির চক্র সক্রিয় কি না—সেটিই এখন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছেন তারা।