বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন

নবাবগঞ্জে মার্কেটের শতাধিক দোকানে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুত নেই, দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের ঢাকা জেলা পরিষদের বিপনী বিতান মার্কেটে ২৪ ঘন্টা ধরে বিদ্যুত নেই। প্রায় শতাধিক দোকানী ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাস করছে।

বুধবার দুপুরে পাশের খুঁটির ট্রান্সমিটার বিষ্ফোরিত হয়ে গেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দেখা মিলেনি বিদ্যুতের। ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর অফিসে একাধিকবার গিয়েও সমাধান পায়নি দোকানীরা।

সরেজমিনে মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানে কোথাও মোবাইলের আলো বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে দোকানে বসে আছে ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ গরমে তালপাখা দিয়ে বাতাস নিচ্ছে। অপুর বনভোজন নামক খাদ্য সমাগ্রীর দোকানের মালিক বাবুল মিয়া বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুত না থাকায় তার ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার আইসক্রীম ও কেক জাতীয় খাবার পচে গেছে।

এ দিকে মার্কেটের অধিকাংশই ওষুধের দোকান। বেশীরভাগ দোকানী অন্ধকারে বসে আছে। একদিকে ভ্যাপসা গরম অন্যদিকে অন্দকার। ইছামতি ফার্মেসীর মালিক নুর ইসলাম বলেন, ২৪ ঘন্টার উপরে সময় পেরিয়ে গেছে কোনো বিদ্যুত নেই। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি যেন এটাকে বেমালুম অবহেলা করছে। বার বার তাঁদেরকে জানানো হলেও কোনো সমাধান দিচ্ছে না।

মোবাইলরে দোকানী নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় গত দু’দিন ধরে এই মার্কেটে কেনো ক্রেতা নেই। এছাড়া প্রচন্ড গরমে দোকান মালিক ও কর্মচারী সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। একদিকে ব্যবসার ক্ষতি অন্যদিকে অসুস্থতার ঝুঁকি। বিদ্যুতের এ করুণ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। গত ২৫ বছরেও নবাবগঞ্জবাসী বিদ্যুতের এমন দুর্ভোগ দেখেনি।

ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর ব্যবসায়ী মো: সাঈদ হোসেন বলেন, এমনিতেই গত মাস খানেক ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং। প্রতি ঘন্টায় কারেন্ট থাকে না। এরপর আবার একাধারে ২৪ ঘন্টা কোনো বিদ্যুৎ নেই। দিন দিন যেন পল্লী বিদ্যুতের প্রতি মানুষ ফুঁসে উঠছে। তাঁদের এসব আচরণ জনগণকে ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। ওষুদের দোকান খাবার হোটেলসহ অনেকেই কষ্টে আছে।

চন্দ্রখোলা থেকে মার্কেটে আসা ক্রেতা সবিতা রানী মন্ডল বলেন, শহরে কারেন্ট থাকলেও গ্রামে সারা রাত কোনো কারেন্ট থাকে না। ছোট বাচ্চা নিয়ে ছটফট করতে হয়। আগে তো এতো সমস্যা ছিলো না। আপনারা গ্রামের দিকে খবর নিয়েন।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার খালেদুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে লোডশেডিংয়ের কবলে। এভারেজে এখানে ৫২-৫৪ভাগ লোড হচ্ছে। তবে গ্রামের দিকে একটু কম। মার্কেটের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কাজ চলছে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের সমস্যায় অফিসের কাজ করাও বেশ ঝামেলা হচ্ছে। আইপিএসে চার্জ শেষ । অফিসে থাকা কষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের জিএমকে বার বার বললেও কোনো সুরাহা মিলছে না।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com