রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রেশ এখনো কাটেনি। যুদ্ধের মোড় পরিবর্তন হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ওয়াশিংটন বর্তমানে তেহরানের পক্ষ থেকে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকলেও ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বার্তায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রধান তিন দাবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন:
নিয়ন্ত্রণ: যুক্তরাষ্ট্রই বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সামরিক সামর্থ্য: ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।
দ্রুত সমাপ্তি: এই সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে।
পাশাপাশি তিনি পুনরায় হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা ও বাস্তবের অমিল
চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া আশ্বাসগুলো এখন জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করছে। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক ভঙ্গিতে বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং খুব সম্ভব আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।”
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট গত এক মাস ধরে একই ধরনের দাবি করে আসছেন। গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সময়ও তিনি দাবি করেছিলেন যে, বিরোধপূর্ণ সব পয়েন্টে দুই দেশ একমত হয়েছে এবং শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি। অথচ সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল বাড়ানো হলেও বড় কোনো চুক্তির বাস্তব লক্ষণ এখনও দৃশ্যমান নয়।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার পর ইরানের সঙ্গে এই ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। টানা ৪০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ২২ এপ্রিল সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্প তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করেন। বর্তমানে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
সূত্র: সিএনএন।