বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। লালমনিরহাটে তামাকের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও বিক্রয় প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি স্বার্থান্বেষী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে ‘লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতি’। স্থানীয় রাসেল নামের এক রিক্সাচালকের ছেলের নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেটটি তামাক কোম্পানিগুলোর সাথে আঁতাত করে প্রকৃত চাষীদের তামাক কেনা বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে মাঠপর্যায়ের সাধারণ কৃষকেরা চরম লোকসান ও ন্যায্য দাম প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বুধবার (২০ মে) লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির সাপ্টিবাড়িস্ত কার্যালয়ে সভাপতি মোঃ মোনায়েম সিদ্দিকী মিলন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান, সহ-সভাপতি মোঃ নূরুন্নবী সরকার নয়ন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম সিধু এবং দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুল আলিম সরকার এক যৌথ বিবৃতিতে এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।
সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামাক চাষীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং তাদের পাশে থাকা প্রকৃত সহযোগীদের নিয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তামাক বিক্রয় প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে সুবিধা লোটার জন্য একটি চক্র তামাক বিক্রি প্রক্রিয়ায় অবৈধ সিন্ডিকেট গঠনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
কৃষকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, বিগত ২০২৬ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পূর্বে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এই চক্রটি তামাক বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। বর্তমানে তারা আবারও সক্রিয় হয়ে সাধারণ চাষীদের জিম্মি করার পাঁয়তারা করছে।
লিখিত বিবৃতিতে তারা জানায়, তামাক চাষীদের অধিকার ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ইতিপূর্বে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তামাক চাষী ও তামাক ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে কয়েকটি সফল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে চাষীদের পক্ষ থেকে ২২ দফা দাবিও উত্থাপন করা হয়।
ইতোমধ্যেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেশ কিছু দাবি পূরণ হয়েছে এবং বাকি দাবিগুলোও পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস দিয়েছে ক্রয়কারী কোম্পানিগুলো। কৃষকদের এই ২২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, চাষীদের বসার জন্য চাষী ছাউনি ও স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম স্থাপন। সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে তামাক ক্রয় করা এবং দালাল বা ফরিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা। উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরির ওপর ভিত্তি করে তামাকের মূল্য নির্ধারণ।গ্রেড নির্ধারণের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা। লালমনিরহাট জেলায় তামাক প্রসেসিংকরণ কেন্দ্র স্থাপন এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহিষ্কার উল্লেখযোগ্য।
সমিতির নেতৃবৃন্দ আরও স্পষ্ট করেন যে, তামাকের দাম নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। তামাকের মান অনুযায়ী দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো দাম ঠিক করে। এবারের মরসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে তামাকের গুণগত মান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বাজারে দামের কিছুটা ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই বাস্তবতাকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কৃষকদের ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে।
তামাক চাষী সমিতির সভাপতি মোঃ মোনায়েম সিদ্দিকী মিলন বলেন, যারা অতীতে আমাদের পাশে ছিল না এবং তামাক চাষীদের সঠিক দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিল, তারাই এখন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমরা সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ করব, আপনারা এই মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সত্যটি সামনে তুলে ধরুন এবং সাধারণ তামাক চাষীদের পাশে থাকুন।
এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে প্রকৃত চাষীদের তামাক বিক্রির নিশ্চয়তা এবং সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার গঠনে জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জেলার হাজার হাজার তামাক চাষী।