রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

সত্যের পথে ১৫ বছর, মানুষের আস্থায় ১৬-তে ‘একুশের কণ্ঠ’ ॥ নির্ভীক সাংবাদিকতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
হাজারো প্রতিকূলতা, অসংখ্য চাপ, ভয়-ভীতি, মামলা-হামলার আশঙ্কা আর অসংখ্য সামর্থ্যকে সঙ্গী করেও সত্য ও মানুষের পক্ষে আপসহীন অবস্থান ধরে রেখে গৌরবের সঙ্গে ১৫ বছর অতিক্রম করে ১৬ বছরে পদার্পণ করেছে দেশের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘একুশের কণ্ঠ’। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভবিষ্যতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পত্রিকাটির নতুন যাত্রা।

“দেশের কথা বলে” এই অঙ্গীকারকে বুকে ধারণ করে ১৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় শুধু সংবাদ প্রকাশ নয়; মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান, সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা এবং প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার দায়িত্ব পালন করেছে একুশের কণ্ঠ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, এই পথচলা কেবল একটি সংবাদপত্রের নয়, বরং সত্য, সাহস ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার এক অবিচল ইতিহাস। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সুধীজন, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি- পেপশার মানুষ অংশ নেন। কেক কাটার মধ্য দিয়ে ১৬ বছরে পদার্পণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ব্যুরোচীপ ঢাকা দক্ষিণ আবুল হাশেম ফকির, বিশেষ প্রতিনিধি ফিরোজ হোসেন, এস এম আলমগীর কবির, সহ-সম্পাদক কবির হোসেন মিন্টু, সাংবাদিক মজিবুর রহমান বাবু, আব্দুর রাজ্জাক প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে পত্রিকার চেয়ারম্যান লায়ন আলহাজ মো. নূরে আলম জিতু সরদার বলেন, একুশের কণ্ঠ এর ১৫ বছরের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। সীমিত অর্থনৈতিক সক্ষমতা, নানা প্রতিবন্ধকতা এবং বহুমুখী চাপের মধ্যেও পত্রিকাটি সত্য প্রকাশের নীতি থেকে কখনো বিচ্যুত হয়নি। তিনি বলেন, “পাঠকের ভালোবাসা, সংবাদকর্মীদের নিষ্ঠা, লেখকদের সহযোগিতা, বিজ্ঞাপনদাতা এবং শুভানুধ্যায়ীদের অকুণ্ঠ সমর্থনই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষের এই ভালোবাসাই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সংবাদপত্রের শক্তি তার সততা। আর সেই সততার জায়গায় কোনো আপস নেই, থাকবে না।”

প্রধান নির্বাহী পরিচালক আজহারুল হক বলেন, বর্তমান সময়ে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তারপরও একুশের কণ্ঠ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সত্য প্রকাশে কখনো আপস করেনি। মানুষের অধিকার, দুর্নীতি, অনিয়ম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ, উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে পত্রিকাটি পাঠকের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। তিনি আরো বলেন, “একটি সংবাদপত্র কেবল সংবাদ পরিবেশন করে না; এটি সমাজের বিবেক, মানুষের প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। সেই দায়িত্ব পালনে একুশের কণ্ঠ অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল হোসেন রতন বলেন, সাংবাদিকতা এক কঠিন অধ্যায় পার করছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার কোনো বিকল্প নেই। একুশের কণ্ঠকে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। পত্রিকার লেখা ও কলাম দেখে পুলকিত হই। রাজধানীর উপকণ্ঠে একটি সাপ্তাহিক এভাবে জাতীয় পত্রিকার আদলে সংবাদ পরিবেশন করে চলেছে। এভাবেই শত বছর কেটে যাক এ প্রত্যাশা করি।

পত্রিকার সম্পাদক আলম হোসেন বলেন, “একুশের কণ্ঠ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি মানুষের সংবাদপত্র। আমরা বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব ক্ষমতার প্রশংসা নয়, বরং মানুষের কথা বলা।” তিনি বলেন, ” দেশের কথা বলে’ এই প্রতিশ্রুতি নিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আগামী দিনেও অনুসন্ধানী, বস্তুনিষ্ঠ ও জনমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে একুশের কণ্ঠ। দুর্নীতি, অনিয়ম, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কলম আগের মতোই সোচ্চার থাকবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন, সম্ভাবনা, সফলতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের সংবাদও সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।” পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন নানা স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যা প্রকাশের পেছনে ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ, শ্রম ও অগণিত মানুষের সহযোগিতা। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও পত্রিকাটি কখনো প্রকাশনা বন্ধ করেনি। সত্য ও মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অবিচল থেকেছে। সংবাদপত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একুশের কণ্ঠ সেই আস্থা অর্জন করতে পেরেছে বলেই ১৬ বছরে পদার্পণের এই মুহূর্তটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, বরং পাঠকের ভালোবাসারও স্বীকৃতি।

শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। করতালি ও শুভেচ্ছার মধ্য দিয়ে উপস্থিত অতিথি, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীরা একুশের কণ্ঠ এর ১৬ বছরে পদার্পণকে স্বাগত জানান। পরে পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। ১৫ বছরের গৌরবময় পথচলা শেষে ১৬ বছরে পদার্পণ এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়; এটি সত্য, সাহস, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি অটল অঙ্গীকারের নতুন শপথ। পাঠকের আস্থা, মানুষের ভালোবাসা এবং নির্ভীক সাংবাদিকতার শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই ‘একুশের কণ্ঠ’ এগিয়ে যেতে চায় আগামী দিনের আরও উজ্জ্বল অভিযাত্রায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com