বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি॥ জামালপুরের ইসলামপুরে হঠাৎ পানি বেড়ে যমুনা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে শতাধিক বসতভিটা ও কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ফসলি জমি, ৮ কোটি টাকার সোলার প্যানেল, গুরুত্বপূর্ন সড়ক, বসতঘরসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা। ভাঙন রোধে কোনো সমাধান না পেয়ে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।
গেল বছর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের চর মন্নিয়া গ্রামটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবার অসময়ে ভাঙ্গনে পূর্ব মন্নিয়া গ্রামটির আজিল্লা মাঝি, নিদেনু শেখ, জয়নাল হাওয়াদার, সিদ্দিক শেখ, নহরুদ্দিন, লালমিয়া, সামাদ দোকানদার, হাজের আলী, আসাদ আলী, মুছা শেখ, কছির মন্ডল, হকমিয়া পরিবার সহ প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ইতিমধ্য নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। চলমান ভাঙ্গনে ভয়ংকর রূপে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে ৭০ বছরের পুরোনো দ্বীপচর মন্নিয়ার গ্রামটি। এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, রাক্ষসী যমুনার ভাঙ্গনে বিগত দিনে চর মন্নিয়াসহ গ্রামকে গ্রাম বিলীন হয়ে গিয়েছে। অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আগ্রাসী যমুনা কয়েকদিন আগেও অনেক দূরে ছিল। এবারো ভাঙতে ভাঙতে শতাধিক বাড়ীঘর বিলীন হয়ে গিয়েছে। বিগত দিনে কয়েক গ্রামের মানুষ ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিতে মানববন্ধন করেও কোন প্রতিকার পাইনি। তাই আমরা এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে টাকা তুলে বাঁশের বাঁধ দিচ্ছি।
মন্নিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, এবারো যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই বিলীন হয়ে যেতে পারে একমাত্র ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা না হলে এ অঞ্চলে শিক্ষার মান পিছিয়ে যাবে। দক্ষিণ মন্নিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার খানাম বলেন, আমার স্কুল থেকে কয়েকশত গজ দূরে নদীর অবস্থান। এই স্কুলে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই।

সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমিসহ অসংখ্য বসতঘর নদীতে চলে যাবে। আমরা আতঙ্কে রয়েছি। সরকার দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিলে আমরা এ অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হবো।
বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আকন্দ বলেন, অসময়ে নদীভাঙন আমাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া আমরা এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের বাঁধ দেব। তারপরেও স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহনে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান বলেন, যমুনার চর বিশাল একটি জায়গা। এখানে অল্প ডাম্পিং ভাঙ্গন প্রতিরোধ হবেনা। বৃহৎ প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। সমীক্ষা করে প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করবো।