বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

মরস্কোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা

ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি। দেশটির বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেন। এর মধ্যে দিয়ে আরব বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন তিনি। আরব বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মরস্কোর সংসদীয় নির্বাচনে ফাতিমার মধ্যপন্থি দল ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএএম) ৩৯৫টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক ৯৭টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮টি আসনের চেয়ে অনেক কম আসন পেয়েছে পিএএম। ফলে সরকার গঠন করতে দলটিকে জোট করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এল মানসুরির প্রথম কাজ হবে সেই জোট গঠন করা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৫০ বছর বয়সী ফাতিমাকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

পরে টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে নিজের নিয়োগকে ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন ফাতিমা। তিনি বলেন, আমাদের দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, মরক্কোর সব নারীর জন্যই গর্বের বিষয়।

আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, রাজার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফুয়াদ আলি এল হিম্মা ২০০৮ সালে পিএএম প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এদিকে, ইসলামপন্থি পিজেডি এবারের নির্বাচনে ৫৪টি আসন পেয়েছে, যেখানে আগের নির্বাচনে দলটির আসন ছিল মাত্র ১৩টি। দলের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানের নেতৃত্বে পিজেডি নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ালেও তিনি জানিয়েছেন, দলটি বিরোধী দলে থাকবে এবং পিএএমের সঙ্গে জোট করবে না।

এছাড়াও ফেডারেশন অব ডেমোক্র্যাটিক লেফটসহ আরো কয়েকটি দল জানিয়েছে, তারা বিরোধী দলে থাকবে।

১৯৭৬ সালে মারাকেশে জন্মগ্রহণ করেন ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি। তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষার ডিপ্লোমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাংলো-স্যাক্সন ব্যবসায়িক আইনে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।

৫০ বছর বয়সী ফাতিমা পেশায় আইনজীবী। তিনি দীর্ঘদিন মরক্কোর মারাকেশ শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে শহরটির মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর আবারও মেয়রের দায়িত্বে ফেরেন। এর আগে তিনি জাতীয় ভূখণ্ড পরিকল্পনা, নগর পরিকল্পনা, আবাসন ও নগরনীতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন (মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন) এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিশাল অংকের বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন তদারকিতে ফাতিমার নতুন সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com