মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পাওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ বা তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। একই সাথে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধন, এনআইডি জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অডিট রিপোর্ট জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসির অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের প্রস্তুতি
ইসি সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের শিডিউল এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। ভোটার তালিকার জন্য ইতোমধ্যে পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তালিকা হাতে পেলেই কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আচরণবিধি ও আইন সংশোধনের লক্ষ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। এই খসড়াটি দ্রুতই আইন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। সাধারণত তফসিল থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত ৪৫ দিনের সময় রাখা হয়। প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট ও ভোটকেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের ‘কাট-অফ পয়েন্ট’ প্রয়োজনে বাড়ানো হতে পারে, যাতে ঘোষণা এলেই দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।
এনআইডি ও বয়স সংশোধন জালিয়াতি প্রতিরোধ
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন বিষয়ে সচিব জানান, এর জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চূড়ান্ত হয়নি। বয়স সংশোধনের আবেদনগুলোতে চরম অসংগতি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বেশি বয়সে পরীক্ষা দিয়ে এসএসসি বা পিএসসি সনদের দোহাই দিয়ে বয়স কমানোর আবেদন করছেন। এতে হিসাব কষে দেখা যায়, আবেদনকারী মাত্র ৭-৮ বছর বয়সেই ভোটার হয়ে গিয়েছিলেন- যা সম্পূর্ণ অসম্ভব ও বেআইনি।
তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, একজনের ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে অন্যজনের ভোটার হওয়ার মতো মারাত্মক জালিয়াতির ঘটনাও ধরা পড়ছে। তাই এনআইডি, পাসপোর্ট এবং জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের মধ্যে নিখুঁত সামঞ্জস্য থাকা আবশ্যক।
দলগুলোর অডিট রিপোর্ট জমা: ৮ দলকে নোটিশ
রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার হালনাগাদ তথ্য দিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩১ জুলাই। দিনটি শুক্রবার হওয়ায় সময়সীমা ২ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩৮টি দল নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এছাড়া ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এবং বাকি ৮টি দল কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সাড়া দেয়নি। সাড়া না দেওয়া দলগুলোকে আইন অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।