রবিবার, ১৪ Jun ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন

বিশ্ব রক্তদান দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস। রক্তদানে মানুষকে উৎসাহিত করা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

এবারের বিশ্ব রক্তদান দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘মানবতার এক ফোঁটা, রক্ত দিন, জীবন বাঁচান।’ দিবসটি উপলক্ষে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি রক্তের অভাবে যেন কোনো রোগীর মৃত্যু না হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

রক্তের বিভিন্ন গ্রুপের আবিষ্কারক এবং ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের জনক অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার-এর জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস পালন করা হয়। তিনি ১৯০০ সালে রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন এবং এ অবদানের জন্য ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের সিদ্ধান্তের পর থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি বছর দিবসটি পালনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকারীদের সম্মান জানানো এবং সাধারণ মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করা।

চিকিৎসকদের মতে, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তি, যার ওজন ৪৫ কেজির বেশি, তিনি চার মাস পরপর রক্তদান করতে পারেন। তবে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তদাতাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, রক্তদাতার শরীরে অন্তত পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের উপস্থিতি নেই এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। এসব রোগ হলো হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি (এইডস), ম্যালেরিয়া এবং সিফিলিস। প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে এসব রোগ না থাকলেই সেই রক্ত রোগীর শরীরে সঞ্চালন করা যায়।

এছাড়া রক্তদানের আগে রক্তদাতার রক্তের গ্রুপ, ক্রসম্যাচিং, ওজন, শরীরের তাপমাত্রা, রক্তচাপ, নাড়ির গতি এবং রক্তস্বল্পতা রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়।

বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, নিয়মিত রক্তদান উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। এর ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমতে পারে। একই সঙ্গে রক্তদানের ফলে অস্থিমজ্জা নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সক্রিয় থাকে এবং শরীরের রক্ত পুনর্গঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও জানান, রক্তদানের সময় বিভিন্ন সংক্রামক রোগের পরীক্ষা হওয়ায় রক্তদাতারা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন। যাদের শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমার প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্যও নিয়মিত রক্তদান উপকারী হতে পারে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে একজন মানুষ একাধিক জীবন বাঁচাতে পারেন। তাই নিরাপদ রক্ত নিশ্চিত করতে এবং মানবতার সেবায় আরও বেশি মানুষকে রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com