শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক পণ্যবাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা জোরদার হয়েছে। এর প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দামেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার নিউইয়র্ক সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০৩.২৩ ডলারে নেমে আসে। ফলে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম প্রায় ১.৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৩.৭০ ডলারে দাঁড়ায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে এক ট্রয় আউন্স স্বর্ণের পরিমাণ ৩১.১০৩ গ্রাম। সে হিসাবে বর্তমান বাজারদরে প্রতি গ্রাম স্বর্ণের মূল্য প্রায় ১৩১.৯২ ডলার। আর বাংলাদেশি হিসাবে প্রতি ভরি স্বর্ণের আন্তর্জাতিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৫৩৮.৭ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৪ টাকার সমান।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এটি আন্তর্জাতিক কাঁচা স্বর্ণের দর। দেশের বাজারে স্বর্ণের খুচরা মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুল্ক, ভ্যাট, পরিবহন ব্যয় ও মেকিং চার্জ যুক্ত হয়।
টিডি সিকিউরিটিজের কমোডিটি কৌশল বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান বার্ট মেলেক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ স্বর্ণ ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতু থেকে সাময়িকভাবে সরে যাচ্ছে, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত অব্যাহত থাকলে আগামী বছরের বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে। পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে, যা জ্বালানি তেলের দামকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়লে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে। আর উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণের মতো অ-সুদভিত্তিক সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।
বাজার পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা বাজারে প্রায় ৬৯ শতাংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহে ভারতের বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য ছাড় দেখা গেছে। তবে চীনে স্বর্ণের চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষ করে জুন মাসে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ আড়াই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিমাণ স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়ানোর তথ্য প্রকাশের পর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৯.৫৬ ডলারে নেমেছে। তবে প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬১৬.৭২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৭৪.৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের ওপর আগামী সপ্তাহগুলোতে স্বর্ণবাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।