বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
টানা দুইদিন দরপতনের পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ফের বেড়ে ১০০ ডলারের ঘরে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পর তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০২.০৫ ডলারে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৬ সেন্ট বেড়ে হয় ৯৫.৮৪ ডলার।
এর আগে বুধবার (৬ মে) ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি প্রস্তাবিত চুক্তিতে রাজি হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে। এই বক্তব্য প্রকাশের পরদিনই তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দামও প্রায় ১২ শতাংশ কমে ৮৯ ডলারে পৌঁছায়।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়, যখন ট্রাম্প ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আরও ব্যাপক বোমা হামলার হুমকি দেন। এরপর থেকেই বাজারে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাধা সৃষ্টি করায় গত দুই মাস ধরেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২২ ডলারে পৌঁছায়, যা ছিল ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।
এদিকে, জাপানভিত্তিক সান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোইউকি কিকুকাওয়া বলেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক পর্যন্ত শান্তি আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এরপর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
আগামী সপ্তাহে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈঠকের ফলাফলও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।