বৃহস্পতিবার, ৩০ Jul ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

বাড়ছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: সংসদেই উঠছে সংবিধান সংশোধনী বিল

বিশেষ প্রতিবেদক, জাতীয় ডেস্ক ॥
জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই সংবিধানে নতুন হাওয়া লাগতে যাচ্ছে- রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধনী বিল সেখানে উপস্থাপন করা হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সরকারের এই পদক্ষেপ।

ছয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও বিএনপির অবস্থান
সংবিধানের বিদ্যমান ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে রাষ্ট্রপতির একচ্ছত্র হাতে। বাকি সমস্ত সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে চলতে হয়। তবে নতুন সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কোনো প্রকার প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে পারবেন:

মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক (গভর্নর) ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)

নোট অব ডিসেন্ট: ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট চারটিতে সম্মত হলেও, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিইআরসি-এই দুই প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি রয়েছে। গণভোটে অনুমোদিত সনদে মোট ৯টি বিষয়ে আপত্তির কথা বলা হয়েছে, এটি তার অন্যতম। অবশ্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিষয়টি ইতিবাচক আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে।

দণ্ড মওকুফ ও নতুন শর্তাবলী
রাষ্ট্রপতির কাছে ফাঁসির আসামি কিংবা দণ্ডপ্রাপ্তদের দণ্ড মওকুফ (মার্জনা/স্থগিত/হ্রাস) করার ক্ষমতা বহাল থাকছে। তবে এতে যোগ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি শর্ত- অনুমোদনের আগে অবশ্যই মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে।

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
ড. শাহদীন মালিক (সংবিধান বিশেষজ্ঞ): “জুলাই সনদ অনুযায়ী পরিবর্তন এলে অবশ্যই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে এবং একচ্ছত্র ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে। গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি এটিকে কীভাবে বাস্তবায়ন করে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।”

আশরাফ উদ্দিন নিজান (সরকারদলীয় হুইপ): “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপত্তিকৃত দুটি বিষয় সংবিধানে সংশোধন কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে ধনাত্মক সমাধান পেতে পারে।”

হামিদুর রহমান আযাদ (সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী): “বিদ্যমান সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে একক ক্ষমতার অধিকারী করেছে, যা কর্তৃত্ববাদ ও ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিয়োগে আমূল পরিবর্তন এলে প্রশাসনে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।”

বিশেষ সংসদীয় কমিটির সমীকরণ
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও একজন স্বতন্ত্র এমপি থাকলেও পরবর্তীতে এটিকে ১৭ সদস্যে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।

তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com