রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী পুনরুজ্জীবন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পানিসংকট নিরসনে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বুধবার অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রকল্প প্রস্তাবের নথি অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং ২টি ফিশ পাশ। এই ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সরকারি সূত্র বলছে, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েক দশকের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সংরক্ষিত পানি বণ্টনের জন্য তিনটি অফটেক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংরক্ষিত পানির মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নদী পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নদীগুলো হলো হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা হবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে বছরে প্রায় ২৪ লাখ টন ধান এবং ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন ও পরিবেশ খাতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের প্রত্যাশা করছে সরকার।
উল্লেখ্য, প্রায় ২৫ বছর আগে তৎকালীন বিএনপি সরকার প্রথমবারের মতো পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তবে নানা কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। এবার নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।