রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনার বার্তা নিয়ে লালমনিরহাটে আগামী ১৯শে মে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা-২০২৬। আগামী ২১শে মে পর্যন্ত লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
রবিবার (১৭ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান জানান, ১৯শে মে সকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয়ভাবে এই মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন। মেলা উপলক্ষে লালমনিরহাটে বর্ণাঢ্য র্যালি, ডিজিটাল ভূমিসেবার স্টল, কুইজ প্রতিযোগিতা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই মেলা চলাকালীন নাগরিকেরা সরাসরি ই-নামজারি আবেদন, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং ডিজিটাল ভূমিসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সেবা ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে পাবেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে এই মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জি আর সরোয়ার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ রাসেল মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মীর ফয়সাল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীতা দাসসহ জেলায় কর্মরত সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ।
এদিকে প্রেস ব্রিফিং শেষে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে লালমনিরহাটের পর্যটন খাতের ‘সম্ভাবনা, সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা তিস্তা ও ধরলার পলল বিধৌত শান্ত ও কোমল আবহাওয়ার জনপদ লালমনিরহাট কেবল একটি সীমান্ত জেলা নয়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি উত্তরের প্রবেশদ্বার। জেলাটি বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের এক জীবন্ত সংগ্রহশালা।
একদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের ৬নং সেক্টরের সদর দপ্তর এবং দেশের একমাত্র মুক্তাঞ্চল হওয়ার গৌরব, অন্যদিকে ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ে ঐতিহ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন দহগ্রাম-আঙুরপোতা ও তিনবিঘা করিডোর, সব মিলিয়ে লালমনিরহাট পর্যটন শিল্পের এক বিশাল খনি।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা জেলার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত এশিয়ায় মিত্রবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ বিমানঘাঁটি আজও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। এখানকার রানওয়ে এবং পরিত্যক্ত হ্যাঙ্গারগুলো পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ হতে পারে। লালমনিরহাটের এই বিপুল পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর জোর দেন সংশ্লিষ্টরা।