সোমবার, ০৮ Jun ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট এলাকায় ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই কিশোর ভাইয়ের সন্ধান ২৪ ঘণ্টাতেও মেলেনি।
সোমবার (৮ জুন) দ্বিতীয় দিনের মতো রংপুর ও লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজে চরম বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।
নিখোঁজ দুই ভাই হলো, মোগলহাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের বড় ছেলে সাব্বির (১৬) ও ছোট ছেলে শাওন (১৪)। তারা দুজনেই মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের যথাক্রমে ৯ম ও ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। দুই ভাইয়ের এমন নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারসহ পুরো মোগলহাট বাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার দুপুরে তীব্র গরমের মধ্যে দুই ভাই সহ আরেক বন্ধু মিলে বাড়ির পাশে ধরলা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নদীর গভীর স্রোতে একজন তলিয়ে যেতে লাগলে নদীর পাশেই থাকা এক ব্যক্তি মেহেদী নামে এক কিশোরকে উদ্ধার করতে পারলেও নদীর তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে দুজনই চোখের পলকে তলিয়ে যায়। নদীর পাড়ে থাকা স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক উদ্ধার চেষ্টা চালায় এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে গতকাল বিকেল থেকেই লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আজ সোমবার সকালে উদ্ধার কাজে যোগ দেয় রংপুর ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্যের একটি বিশেষ ডুবুরি দল।
সরেজমিনে মোগলহাট এলাকায় ধরলা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। নিখোঁজ সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় নদীর পাড়ে বসে বুক ফাটা আর্তনাদ করছেন মা-বাবা ও স্বজনরা। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরাও।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রোকন উজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আজ সকাল থেকে রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দলও আমাদের সাথে যোগ দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে ধরলা নদীতে পানির গভীরতা বেশি এবং স্রোত অত্যন্ত তীব্র। এই তীব্র স্রোত ও নদীর তলদেশের ঘূর্ণিপাকের কারণে ডুবুরিদের কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। নিখোঁজ দুই কিশোরকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।