বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন

দ. আফ্রিকার বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়লেন হৃদয়

স্পোর্টস ডেস্ক:: দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। এবার সেই একই শহরে, ভিন্ন এক মঞ্চে অনন্য এক মেইলফলক ছুঁলেন হৃদয়।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ২০৪ রানে অপরাজিত হৃদয়। তার ব্যাটে ভর করে ৫১২ রানের পাহাড়ের জবাবে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেটে ৪৭১ রান। প্রোটিয়াদের চেয়ে এখনো ৪১ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, হৃদয়ের এই দ্বিশতক তৈরি করেছে ২৩ বছরের অপেক্ষারও অবসান। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের প্যাট্রনস ট্রফিতে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ২১৮ রান করেছিলেন শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ। এরপর বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আর কোনো ব্যাটার দ্বিশতকের দেখা পাননি। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সেই কীর্তিতে ভাগ বসালেন হৃদয়।

বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিশতক করা ব্যাটারদের তালিকাতেও এখন হৃদয়ের নাম। তার আগে এই কীর্তি ছিল মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের। মুশফিক ২০১৩ সালে অপরাজিত ২০০ এবং সাকিব ২০১৭ সালে ২১৭ রান করেছিলেন; দুটিই টেস্ট ক্রিকেটে।

হৃদয়ের এই ইনিংসের শুরুটাও ছিল দলের কঠিন সময়ে। আগের দিন ৪ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে শেষ করা বাংলাদেশকে টেনে তুলছিলেন হৃদয় ও জাকের আলি। তৃতীয় দিনে সেই জুটি আরও ১৫১ রান যোগ করে। শতকের কাছে গিয়ে জাকের থামেন ৯৪ রানে। জাকের ফেরার পর দায়িত্বটা পুরোপুরি নিজের কাঁধে তুলে নেন হৃদয়। একশ পেরিয়েও থামেননি। দেড়শ, তারপর দুইশ, প্রতিটি ধাপ পেরিয়েছেন নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে। ৩৩৯ বলের ইনিংসে ২২টি চার ও একটি ছক্কা মেরে ২০৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

দুইশর মাইলফলকেও পৌঁছান নাটকীয়ভাবে। ১৯৯ রানে থাকা হৃদয় কাইল সিমন্ডসকে কাট করে চার মেরে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি। এরপর উদযাপনটাও ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার স্বীকৃতির মতো।

তবে শুধু হৃদয় একাই নন, বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত দিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনও। প্রায় চার বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরেই ১৭১ বলে ৮৭ রান করেছেন তিনি। হৃদয়ের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে তাদের জুটিতে এসেছে ১৮৫ রান।

শেষটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য একটু আক্ষেপের। দিনের শেষ হওয়ার মাত্র দুই বল আগে সাইফ উদ্দিন কাইল সিমন্ডসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে থামেন। ফলে সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরেই শেষ হয় তার প্রত্যাবর্তনের ইনিংস।

তবু দিনের শেষ ছবিটা বাংলাদেশেরই। ১৩৯.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ৪৭১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের খুব কাছাকাছি বাংলাদেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com