শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহে কমেছে পাটের চাষ। দাম কম পাওয়া আর পাট পচানোর স্থান না পাওয়ায় চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এ জেলার কৃষক। এছাড়াও এ বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে বপনকৃত পাটের ক্ষতি হয়েছে। পানি জমে অনেক স্থানে পাট গাছ মরে গেছে।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসরাণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, জেলার ৬ উপজেলায় গত বছর পাটের আবাদ হয়েছিল ২৪ হাজার ১’শ ৭২ হেক্টর। আর চলতি মৌসুমে আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৪’শ ৮০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবাদ কমেছে ৮ হাজার ৬’শ ৯২ হেক্টর জমিতে।
জানা যায়, এক সময় দেশের অন্যান্য এলাকার মত এ অঞ্চলের চাষিরা পাট চাষ একেবারেই কমিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীদের দাম বৃদ্ধির পর চাষি ধীরে র্ধীরে পাট চাষে ঝুঁকতে থাকে। গত দু তিন বছর ধরে পাট চাষ করে চাষির উৎপাদন খরচ উঠছে না। ক্ষেত থেকে পাট কাটা, বহন করে এনে নদী, বিল, খাল ও পুকুরে জাগ দিতে অনেক টাকা ব্যয় হয়। যে কারণে চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ কমিয়ে দিয়ে অন্য ফসলের দিকে ঝুকছে কৃষক।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের চাষি নাজির উদ্দিন জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে ১৬-১৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বিঘাতে পাট হয় ১০/১২ মন। প্রতিমণ পাট বিক্রি হয় এক হাজার টাকা থেকে ১৪’শ টাকা পর্যন্ত । এ দামে পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠে না। গত বছর তিনি ২৫ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এবার কমিয়ে ১৬ কাঠায় চাষ করেছেন।
একই উপজেলা বিজুলিয়া গ্রামের চাষি বাচ্চু মোল্লা জানান, গত বছর তিনি সাড়ে ৯ বিঘায় পাট চাষ করেছিলেন। এবার কমিয়ে ৭ বিঘায় চাষ করেছেন। বৃষ্টির কারনে ৫ বিঘা জমির পাট নষ্ঠ হয়ে গেছে।
সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, তিনি ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। শিালাবৃষ্টিতে পাটের ডগা ভেঙ্গে গেছে। গাছের বাড়তি থেমে গেছে। কয়েক দিন অপেক্ষা করবেন। গাছ না বাড়লে ক্ষেত মেরে দিবেন। ধান চাষ করবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জি এম আব্দুর রউফ বলেন, চাষি ধান চাষে ঝুঁকে পড়ায় পাট চাষ কমেছে। শিলাবৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারনে পাটের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। এরপরও কৃষকদের নানা ভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।