সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:: দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও স্মারকফলক উন্মোচন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রায় ৮৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা ছিল। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পাওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আরও একটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো। তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চশিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখান থেকে দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক গড়ে উঠবে, যারা জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে সংঘাতের রাজনীতি নয়, সহনশীলতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মধ্য দিয়েই একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও স্মারকফলক উন্মোচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি ও সফলতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার পাশাপাশি নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিকল্পিত ও আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আহসান হাবিব দুলু, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইসরাফিলসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের পদস্থ কর্মকর্তা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট নাগরিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্চশিক্ষার বিস্তারের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।