রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন
অভিষিক্তি রাজাউল্লাহ স্পোর্টস ডেস্ক:: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোন ধরনের লড়াই ছাড়াই দুই টেস্টে হেরে যায় পাকিস্তান। এরপর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড রীতিমতো হাস্যকর সব কাজ শুরু করে ইংল্যান্ডে সফরকারী দলটি নিয়ে। সিরিজের মাঝপথে ৭ ক্রিকেটারকে দেশা পাঠায় আর ৪ পরিবর্তন নিয়ে এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামে। এরপর প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় ছিল বাবর আজমের দল। কিন্তু শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তান সফরের সেরা দিনটা পার করল।
জয়ের সম্ভাবনা অবশ্য এখনো খুব কম। তবে লড়াইটা অন্তত টেনে নিয়েছে পাকিস্তান। অভিষিক্ত পেসার রাজাউল্লাহর অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডকে চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ১৩০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে তারা। ৪৪৯ রানে দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করেছে পাকিস্তান।
দিনের শুরুতে পাকিস্তানের গল্পটা ছিল অন্য রকম। ১২৫ রানে ৩ উইকেট থেকে শুরু করে একসময় ৩১৮ রানে ৮ উইকেট। তবে এর মধ্যেই শান মাসুদের ৯৫ ও বাবর আজমের ৭৬ রানের ইনিংস পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরার ভিত গড়ে দেয়। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি শান। বাবরও খেলেছেন আত্মবিশ্বাসী ইনিংস।
এরপরই রাজাউল্লাহর তাণ্ডব শুরু হয়। অষ্টম উইকেটের পর ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন ২১ বছর বয়সী এই পেসার। মোহাম্মদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে নবম উইকেটে যোগ করেন ১২১ রান। আব্বাসের ক্যারিয়ারসেরা ৪২ রানের সঙ্গে রাজাউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রান। ৪টি চারের পাশাপাশি ছক্কা মেরেছেন ৯টি।
৪৩ বলে ফিফটি করে টেস্ট অভিষেকে পাকিস্তানের হয়ে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ডও গড়েন রাজাউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত ড্যান লরেন্সের বলে স্টাম্পড হয়ে থামেন তিনি। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংসও। তবে রাজাউল্লাহর গল্পটা শুধু ব্যাট হাতে নয়। অভিষেকেই ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে ছিল জো রুটের উইকেটও। অর্থাৎ অভিষেক টেস্টেই বল ও ব্যাট, দুই জায়গাতেই নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন এই তরুণ।
তবু বাস্তবতা কঠিন। প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ডের লিড ছিল ৩২০ রান। পাকিস্তানের ৪৪৯ রানে সেই ঘাটতি পুষিয়ে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩০। তাই তৃতীয় দিনের শেষে স্বস্তি পেলেও ম্যাচে চালকের আসনে এখনো ইংল্যান্ডই।
প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে জেতা ইংল্যান্ড সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে। ফলে এজবাস্টনে জয় পেলেই তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করবে তারা।