শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ধারাবাহিক ঘটনার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা জেন-জি আন্দোলন এখন রাজপথ ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দীর্ঘদিনের অনলাইন আধিপত্যকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর আল জাজিরা’র।
গত ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লির প্রধান সড়কগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারী রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে বিক্ষোভে অংশ নেন।
আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার ভিডিও, ছবি ও মিম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিটে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিশোরী অবাংশিকা সিং আল জাজিরাকে বলেন, “এখন সবাই শুধু এই আন্দোলনের কথাই বলছে। অন্তত আমরা আমাদের বিপ্লব সবার সামনে তুলে ধরতে পেরেছি। আজ পুরো দেশ আমাদের সঙ্গে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের অভিজ্ঞতা অনুভব করছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রচারণার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় ওঠা নরেন্দ্র মোদির জন্য এখন সেই একই প্ল্যাটফর্মই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেন-জি প্রজন্ম মিম, ভিডিও ও ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং অনলাইন জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পুলিশ মেটা স্মার্ট চশমা ব্যবহার, লাঠিচার্জ, পেলেট গান এবং কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করেছে। পাশাপাশি নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের মারধর, ধাওয়া এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে ভারতের প্রধান বিচারপতি আন্দোলনকারী তরুণদের “তেলাপোকা” ও “পরজীবী” বলে মন্তব্য করার পর আন্দোলনকারীরা প্রতীকীভাবে “ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)” নামে একটি সংগঠন গঠনের ঘোষণা দেন। তারা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চলবে।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা না করা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
সাংস্কৃতিক সমালোচক অনুরাগ মাইনাস ভার্মা বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজপথে প্রকাশ পাচ্ছে। তার মতে, রাজধানী দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্য সমালোচনা এখন শুধু গ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তরুণদের কাছে তা জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে।
২০ বছর বয়সী আন্দোলনকারী ইপশিতা গুলিয়ারি বলেন, “এই সরকার দেশের যুবসমাজের প্রতি কোনো দায়িত্ব পালন করছে না। মোদি ভুল প্রজন্মের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছেন।”
আরেক আন্দোলনকারী ১৮ বছর বয়সী যশভি কুমারের ভাষায়, “জেন-জি হাস্যরস আর মিমকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করছে। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেও আমরা বুঝেছি, এক হতে হলে বিদ্রোহেরও একটি ভাষা প্রয়োজন, আর সেই ভাষাই এখন মিম।”
বিশ্লেষকদের মতে, ২০ জুলাইয়ের ঘটনার পর দিল্লির বাইরে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, লখনউ ও আইজলসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেন-জি প্রজন্মের সক্রিয়তা বিজেপির দীর্ঘদিনের ডিজিটাল প্রভাবের বিরুদ্ধে নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে।