বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
জুলাই আন্দোলনের কোনো একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ, শিশু ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফলেই এ আন্দোলন সফল হয়েছে। সে বিপ্লবের ইতিহাস বিকৃত বা ভুলিয়ে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
গতকাল (০৪ অগাস্ট ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আন্দোলনে নিহতদের পরিবার, আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব এখনো শেষ হয়নি। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, অনেকে এমনভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন যে তারা আর কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। এসব মানুষের পুনর্বাসন ও যাবতীয় চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। আন্দোলনের সময় তাঁর সহকর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং চিকিৎসায় যেন কোনো গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তদারকি করেছেন।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা না হওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও জীবিত বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বহু সরকার ক্ষমতায় এসে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার দাবি করলেও এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে অবহেলা করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, একই ভুল যেন ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের ক্ষেত্রে না হয়। শহীদ, আহত ও আন্দোলনকারীদের একটি নির্ভুল রাষ্ট্রীয় তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
সরকারের সাম্প্রতিক ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এবং বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর পর থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগের প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলে গিয়ে নতুন নতুন বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সংসদে ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের অঙ্গীকার করলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের রায়ই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ। সে রায়ের বাইরে যাওয়ার বা জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার কোনো সুযোগ নেই। দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জেল, আয়নাঘর কিংবা মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তাঁদের দমানো যাবে না; বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষায় এ সংগ্রাম অবিচল থাকবে।