বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

জুলাই জাদুঘর ৫ আগস্টের মধ্যে না খুললে জনগণ খুলে নেবে: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে কথা বলছেন নাহিদ ইসলাম।

নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর খুলে না দিলে জনগণ নিজেই খুলে নেবে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর রায়েরবাজারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ট্রাইব্যুনালের একটি বিচারের রায় বাংলাদেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারা এ রায়ের মাধ্যমে প্রকৃত ন্যায়বিচার পাননি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাসদের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হাসানুল হক ইনু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যায় প্রত্যক্ষভাবে মদদ দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা ছিলেন ওই গণহত্যার প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং ইনু তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। এ কারণে ইনুকে তিন মামলায় ১০ বছর করে যে সাজা দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রপক্ষ যেন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।

বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি মামলার রায় হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ক্ষেত্রেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও ট্রাইব্যুনাল দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণহত্যা এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেসব ব্যক্তি ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের যে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া রায়েরবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবরস্থান সংরক্ষণের যে পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কবরস্থান দ্রুত সংরক্ষণের দাবি জানান এনসিপির এই নেতা।

সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার এবং গণভোটের রায়ের আলোকে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের যে অঙ্গীকার ছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এবারের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গণহত্যার বিচার এবং সংস্কার বাস্তবায়ন।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন করলেই হবে না। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জুলাইকে কেন্দ্র করে ৩৬ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ও স্মৃতি সংরক্ষণ কার্যক্রম ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মোজাহিদ প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com