বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
স্পোর্টস ডেস্ক:: আইভরি কোস্টের বিপক্ষে মঙ্গলবার ২-১ ব্যবধানে জিতে নরওয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে। বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার রাত ৩টায় তারা শেষ ১৬-র ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে। তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের দল গত রাউন্ডের জাপানের চেয়ে ব্রাজিলিয়ান দলের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
গ্যালারিতে ভক্তদের ভাইকিং রোয়িং স্লোগানের সাফল্যের জন্য পরিচিত নরওয়ে বিশ্বকাপে মাঠেও বেশ ভালো করছে। তারা এ পর্যন্ত চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে, যেখানে দশটি গোল করেছে ও আটটি গোল হজম করেছে। তাদের একমাত্র হার ছিল ফ্রান্সের কাছে ৪-১ ব্যবধানে। গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের ওই ম্যাচে নরওয়ে তাদের শুরুর একাদশের নিয়মিত খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে রিজার্ভ দল মাঠে নামিয়েছিল।
নরওয়ের শক্তি লুকিয়ে আছে তাদের আক্রমণে। চলতি বিশ্বকাপে পাঁচ গোল করা হালান্ডের দৃঢ়তা ও ওডেগার্ডের সৃজনশীল ক্ষমতার কারণে দলটি ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। তবে কোচ কার্লো আনচেলত্তি এমন একজনের ওপর ভরসা রাখছেন, যিনি প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল ও ম্যানসিটির মধ্যকার ম্যাচগুলোতে হালান্ডের মুখোমুখি হতে অভ্যস্ত। তিনি গ্যাব্রিয়েল মাগালাহায়েস।
আরেকটি জায়গায় ব্রাজিলকে অবশ্যই বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে নরওয়েজিয়ানদের বিপক্ষে এরিয়াল বল ও শারীরিক লড়াইয়ে। প্রতিপক্ষ দলে লম্বা ও শক্তিশালী খেলোয়াড় রয়েছে। যেমন ফরোয়ার্ড হালান্ড (১.৯৪ মি.) ও সরলথ (১.৯৫ মি.), মিডফিল্ডার বার্গ (১.৯৫ মি.) এবং ডিফেন্ডার আয়ের (১.৯৬ মি.) ও হেগেম (১.৯২ মি.)। অন্যদিকে ব্রাজিলের শুরুর একাদশের সবচেয়ে লম্বা খেলোয়াড় হলেন মাগালাহায়েস (১.৯০ মি.)। তিনিই ১.৯০ মিটার সীমার মধ্যে থাকা একমাত্র খেলোয়াড়।
নরওয়ে আক্রমণ করতেই পছন্দ করে। তাই ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের মতো রক্ষণাত্মক হয়ে বসে থাকার কথা তাদের নয়। তবে ব্রাজিলিয়ান দলের বিপক্ষে তারা একেবারে সর্বশক্তি দিয়ে যে আক্রমণে যাবে, তা কিন্তু নয়। সেক্ষেত্রে খেলার মতো আরও বেশি জায়গা পাওয়ার প্রবণতা থাকবে ব্রাজিলের। তাতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রায়ানের মতো খেলোয়াড়দের গতি কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারবে তারা।
ফ্রান্সের বিপক্ষে বড় পরাজয় কিন্তু দুশ্চিন্তা বাড়ায় না। কারণ নরওয়ের রিজার্ভ স্কোয়াড নেমেছিল, তাই এই হার স্বাভাবিক। তবে অন্যান্য ম্যাচেও নরওয়ের রক্ষণাত্মক সমস্যা দেখা গেছে। তারা সেনেগালের বিপক্ষে দুটি গোল (৩-২) এবং এই বিশ্বকাপে তাদের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষ ইরাকের কাছে একটি গোল (৪-১) হজম করেছে।
আক্রমণভাগের বিশেষ খেলোয়াড়দের বাদ দিলে নরওয়ের দলে তারকাবহুল কোনো স্কোয়াড নেই। ও গ্লোবোর হেড-টু-হেড তুলনামূলক বিশ্লেষণে ম্যাচের আগে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের প্রতিটি অবস্থানের সম্ভাব্য শুরুর একাদশের তুলনা করা হয়েছিল, সেখানে আইভরিয়ানরা ৮-৩ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। বলা যায়, নরওয়ের হালান্ড থাকলেও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের বিপক্ষে ব্রাজিল দলই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে।