শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জালিয়াতির মামলায় আদালতে অভিযুক্ত হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা। আদালতে মামলার কার্যক্রম চলমান থাকলেও তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত বা প্রশাসনিক ভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দেওয়ায় তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শিক্ষা প্রশাসনের নীতিমালা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জালিয়াতির মামলায় আদালতের সমন জারির পরও রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারাকে সাময়িক বরখাস্ত না করায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইর তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের সমন এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধিমালায় সাময়িক বরখাস্তের সুস্পষ্ট বিধান থাকার পরও কেন এখনো কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—তা নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের ভেতর-বাইরে তীব্র আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একই ধরনের ঘটনায় অতীতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নজির থাকলেও এ ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বিলম্ব প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। মামলার নথি অনুযায়ী, তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
অভিযোগকারী শিক্ষকরা জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিদ্যালয় ও কলেজ) জনবল কাঠামো, ২০২৫-এর ১৯ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, নৈতিক স্খলন বা দুর্নীতির অভিযোগে আদালত সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত রাখতে হবে। তাঁদের দাবি, অতীতে একই বিধানের আওতায় একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ হোসনেয়ারার ক্ষেত্রে সেই বিধান কার্যকর না হওয়ায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২১ মে আদালতের সমন, পিবিআইর তদন্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করে মাউশিতে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের ভাষ্য, আইন শাখা বিষয়টি পর্যালোচনা করে ইতিবাচক মতামত দিলেও প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এতে বিধিমালা বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক বিলম্বের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, আদালতের সমনের পর বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। কিন্তু এ ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া দৃশ্যমান না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—আইন ও বিধিমালা কি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর, নাকি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে?
এ বিষয়ে রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আদালত থেকে গত ৭ জুলাই স্থায়ী জামিন নিয়েছি। এখন যা করার আদালত করবে।
অন্যদিকে অভিযোগকারী শিক্ষকরা বলেন, আদালতের সমন জারির পরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশাসন ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁরা বিধিমালার সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করে দ্রুত আইনানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান।