শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন
ভ্রম্যমান প্রতিনিধি:: শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে একদিনের জন্য যেন আনন্দের রাজ্যে পরিণত হলো ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং চর তাশুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিভাবকদের আয়োজনে চড়ুইভাতি এবং নবাবগঞ্জ পল্লবি কচি-কাঁচার মেলার উদ্যোগে খেলাধুলার আয়োজনে দিনভর হাসি-আনন্দে মেতে ওঠে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের এক কোণে চলছিল অভিভাবকদের রান্নার ব্যস্ততা। আর অন্যদিকে বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে শিশুদের ছোটাছুটি, খেলাধুলা, উল্লাস আর আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয় একটি করে খেলা। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও আয়োজন করা হয় খেলাধুলা।
বিশেষ আমন্ত্রণে শিশুদের সঙ্গে আনন্দে অংশ নেন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কনটেন্টের জনপ্রিয় শিশুবন্ধু দারুল নাঈম। তিনি শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের উদ্দেশে উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য দেন।
দারুল নাঈম বলেন, শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, আনন্দ ও সামাজিক মেলামেশারও প্রয়োজন রয়েছে। এমন আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে এবং দলগতভাবে কাজ করার শিক্ষা দেয়। বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগে শিশুদের জন্য এমন আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ পল্লবি কচি-কাঁচার মেলার মেলা ভাই অনিক হোসেন আবির। তিনিও শিশুদের বিভিন্ন খেলায় উৎসাহ দেন এবং তাদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটান।
দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন খেলায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মোট ৪০টি পুরস্কার। পুরস্কারগুলো প্রদান করা হয় শিশুবন্ধু প্রীতম মণ্ডলের পক্ষ থেকে।
চড়ুইভাতির রান্না, শিশুদের খেলাধুলা, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ, অতিথিদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি এবং পুরস্কার বিতরণ-সব মিলিয়ে ১৪ নং চর তাশুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
আয়োজকরা বলেন, শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং পড়াশোনার পাশাপাশি আনন্দের মধ্য দিয়ে তাদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।