রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ অনলাইন:: দেশে অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান জামিনে মুক্ত হয়েছেন। দীর্ঘ চার বছর কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। এরপর নিজ এলাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র বলছে, গেল সপ্তাহে কারাগার থেকে মুক্ত হন সেলিম প্রধান। এরপর ঢাকায় ছিলেন। শনিবার তিনি রূপগঞ্জ গেছেন।
গ্রেপ্তারের পর সেলিমের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় আট বছরের সাজা হয়েছে। আরও তিন মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তার কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সেলিম প্রধানকে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করে র্যাব-১। পরে তার গুলশান, বনানীর বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে তিন সহযোগী আখতারুজ্জামান, রোমান ও মাসুমকে আটক করা হয়। তখন সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে এ বছরের ৩০ এপ্রিল ঢাকার একটি আদালত সেলিমকে অবৈধভাবে ৫৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আয় ও প্রায় ২২ কোটি টাকা পাচারের মামলায় ৮ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে রূপগঞ্জে একটি পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে সেলিম প্রধান বলেন, ‘আই অ্যাম ব্যাক, আই ডোন্ট কেয়ার অ্যানিওয়ান’। এসময় সেলিম প্রধান বলেন, ‘আমার বাকি জীবন রূপগঞ্জেই সময় দেব। আমার গ্যারান্টি, আমি রূপগঞ্জকে পরিবর্তন করে ছাড়ব।’
২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের পর যা বলেছিল র্যাব:
সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তারের পর র্যাব জানিয়েছিল, দেশে অনলাইনভিত্তিক ক্যাসিনো ব্যবসার মূল হোতা সেলিম প্রধান। থাইল্যান্ডে বসে তিনি অনলাইনে জুয়ার কারবার চালাতেন। প্রয়োজন হলেই দেশে চলে আসতেন। বিমানবন্দরের একটি ফ্লাইট থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর তার অপরাধ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
ঢাকার অপরাধ জগতের মাফিয়া ডন সেলিম। গুলশানে তার মালিকানাধীন একটি স্পা সেন্টার রয়েছে। সেখানে চলে অনৈতিক কাজ। সেখানে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনের যাতায়াতও রয়েছে।
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হন বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। এই লোকমানের ক্যাশিয়ার ছিলেন সেলিম প্রধান। এই দুজন মিলে মতিঝিল ও গুলশান এলাকায় ক্যাসিনো ব্যবসা করতেন।
সেলিমের ক্যাসিনো ব্যবসা সম্পর্কে তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারওয়ার জানান, অনলাইনে কয়েন বিক্রি করে ক্যাসিনো খেলায় জুয়াড়িদের উদ্বুদ্ধ করতেন সেলিম প্রধান। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খুলেছিলেন তার গোপন ক্যাসিনো। ক্যাসিনো থেকে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি বিভিন্নভাবে বিদেশে পাচার করেছেন।
তাছাড়া পশুর খাটালে চাঁদাবাজি, হোটেল, স্পা, ক্যাসিনো পরিচালনাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে সেলিমের বিরুদ্ধে। অনলাইনে কয়েন বিক্রি করে তিনি ঢাকায় ক্যাসিনো চালাতেন। এসব করে কামিয়েছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
থাইল্যান্ডের পাতায়াতেও রয়েছে সেলিমের ক্যাসিনো ব্যবসা। ব্যাংককে বিলাসবহুল হোটেল, ডিসকো বারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত এই সেলিম প্রধান।