শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি:: ঢাকার কেরানীগঞ্জে আইনজীবীর সহকারী সালমা বেগমকে (৫০) হত্যার পর ফ্ল্যাটে আগুন দেওয়ার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. রিয়াজ (২০) নামের এক যুবককে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার রিয়াজ সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর থানার সংগ্রামপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি স্টিলের দোকানের কর্মচারী।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়নের অমৃতপুর এলাকার দোলন হোসেনের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে সাবলেট ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন সালমা বেগম, তাঁর বোন সামছুন্নাহার এবং রিয়াজ ও তাঁর বাবা ফরিদ মিয়া। গত ২৭ নভেম্বর বিকেলে ওই ফ্ল্যাট থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখে প্রতিবেশীরা ফায়ার সার্ভিসকে খরব দেয়। তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘর থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সালমার বোন সামছুন্নাহার সেদিন শ্বশুরবাড়িতে থাকায় প্রথমে লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে এটি সালমা বেগমের লাশ বলে শনাক্ত হয়। এরপর সালমার ভাই মনু মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি অগ্নিকাণ্ড বলে মনে হলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে সন্দেহ তৈরি হয়। তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন আগে (২৫ নভেম্বর) পানির কল খোলা রাখাকে কেন্দ্র করে সালমা মুঠোফোনে রিয়াজকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয় রিয়াজ। পরবর্তীতে ২৭ নভেম্বর দুপুরে সুযোগ পেয়ে সালমার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে রিয়াজ। এরপর লাশ কাপড়ে মুড়িয়ে ঘরে লুকিয়ে রাখে। দুদিন পরে লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে রিয়াজ পরিকল্পিতভাবে ফ্ল্যাটে ফোম জাতীয় দ্রব্য ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে বাইরে থেকে ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ করে সে পালিয়ে যায়। যাতে হত্যাকাণ্ডটি দুর্ঘটনা বলে মনে হয়। তবে তদন্তের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে পলাতক রিয়াজকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) জাহাঙ্গীর কবির বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় রিয়াজের অবস্থান শনাক্ত করা হলেও সে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিল। অবশেষে আজ ভোরে সুনামগঞ্জের ছাতক থানাধীন হাওর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আজ রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।